আপাতত আর মামলায় যাচ্ছে না এসইসি

শেয়ার কারসাজির অভিযোগে আর কারও বিরুদ্ধে আপাতত কোনো মামলা দায়েরের সম্ভাবনা নেই। শেয়ার কারসাজির দায়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়া ছাড়া এই ইস্যু নিয়ে নীরব রয়েছে সংস্থাটি। শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এসইসির সূত্র জানিয়েছে, অতীতের অনিয়ম বা কারসাজির ইস্যুকে আর দীর্ঘায়িত না করে বরং ভবিষ্যতে শেয়ার কারসাজি প্রতিহত করতে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সরকার থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বলে জানা গেছে। শেয়ার কারসাজির ইস্যু দীর্ঘায়িত করা হলে বাজারের অস্থিতিশীলতা দূর করা যাবে না_ এমন আশঙ্কা থেকেই এসইসি এ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অতীত বা ভবিষ্যতের যে কোনো শেয়ার লেনদেন বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কারসাজি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে এসইসির বিদ্যমান বিধিমালার আলোকেই ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন নীতি গ্রহণ বিষয়ে শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সংশ্লিষ্টদের জন্য সাময়িক স্বস্তির কারণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার শৃঙ্খলা ধরে রাখা কিংবা কারসাজি রোধে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে থাকবে। এ সম্পর্কে এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, 'ছিয়ানব্বইয়ের পর ২০০৯ ও ২০১০ সালের কারসাজির ঘটনার প্রধান হোতারা আড়ালেই রয়ে গেল। এটা ঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনেকের বিরুদ্ধেই কোনো অভিযোগ করা যায় না। কিন্তু এতে কারসাজির যেসব দিকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছিল, সেসব বিষয়ে প্রয়োজনে সময় নিয়ে হলেও পুনঃতদন্ত করা হলে আরও অনেক কিছু বের হয়ে আসত।' তিনি আরও বলেন, পর পর দু'বারে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারার ব্যর্থতা ভবিষ্যতে হয়তো কারসাজি হোতাদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এ বিষয়ে এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তিনি বলেন, 'এখন সবাই চায় শেয়ারবাজার স্থিতিশীল থাকুক। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।' এর আগে গত ২১ আগস্ট শেয়ার কারসাজির দায়ে মামলা করার পর তিনি সমকালকে বলেছিলেন, নতুন করে শেয়ার কারসাজির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে, এসইসি নিজস্ব বিধিমালার আলোকে ব্যবস্থা নেবে।
ব্যাপক আলোচিত ছিয়ানব্বইয়ের শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তৎকালীন নেতা ও প্রভাবশালী সদস্য এবং কয়েকটি কোম্পানি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করা হয়েছিল। তবে অদ্যাবধি তার একটিরও সুরাহা হয়নি।

Comments