বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধির আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর

ঈদের পর বস্ত্র খাতে বিকল্প নগদ সহায়তা বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বস্ত্র খাত বর্তমানে বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। তারা অনেক বেশি দামে তুলা কিনেছিল। এখন দাম পড়ে গেছে। ফলে কিছু কোম্পানির খেলাপি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের প্রতি আমরা অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। ঈদের পরপরই বস্ত্র খাতের জন্য কিছু একটা করা হবে।’
সচিবালয়ে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের তিন শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, এফবিসিসিআইর সভাপতি এ কে আজাদ, বিজিএমইএর সভাপতি শফিকুল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিটিএমএর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন, বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বস্ত্র খাতে দেশীয় সুতা ব্যবহার করলে রপ্তানির বিপরীতে পাঁচ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। এটাকে ১৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ। তাদের দাবি, ঈদের আগেই কিছু করা হোক। সহায়তা কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে, তবে এই সময়ের মধ্যে তা সম্ভব হবে না।
অর্থমন্ত্রীর কাছে বিটিএমএ জানায়, দেশের বস্ত্রকলগুলো বর্তমানে তীব্র তারল্য সংকটে রয়েছে। মিলগুলো যেভাবে চালু রয়েছে, তা প্রায় বন্ধই বলা চলে। নগদ সহায়তা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে তা ২০১৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় বস্ত্র খাত চরম বিপদের মধ্যে পড়ে যাবে।
বিটিএমএ আরও জানায়, তারল্য সংকটে মিলগুলো ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে। চলতি মূলধনের জন্য অনেকে কাঁচামাল আমদানি করতে পারছে না। বেশি দামে তুলা কিনে সুতা উৎপাদন করে লোকসানে বিক্রি করায় চলতি মূলধনে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, একটি উপায়ে তার সমাধান করা যেতে পারে। সেটি হচ্ছে, ঘাটতির অঙ্ক ‘চলতি মূলধন মেয়াদি ঋণ’ নামের একটি হিসাবে রূপান্তর করে সুদমুক্ত ব্লক হিসাবে তা দুই বছরের জন্য রেখে দেওয়া।
এসব দাবির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও দু-একজন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ঈদের পরপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকের পর বিটিএমইএর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন বলেন, ‘বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আশা করছি ঈদের পরপরই নগদ সহায়তা বাড়ানোর একটি ঘোষণা আসবে।’
জাহাঙ্গীর আলামিন আরও বলেন, ‘আমরা প্রতি কেজি তুলা কিনেছি পাঁচ ডলারেরও বেশি দামে। এখন এর দাম ৩ দশমিক ৪০ ডলার। বস্ত্রকলগুলোর কাছে আড়াই লাখ টন সুতা রয়ে গেছে। এতে লোকসান গুনতে হবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।’
অর্থমন্ত্রী জানান, ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়ায় গত অর্থবছরে এ খাতে সরকারকে দিতে হয়েছে ৮৭৭ কোটি টাকা।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি না যে তারা যেসব দাবি উত্থাপন করেছে, তা অযৌক্তিক।’

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-08-22/news/180025


Comments