ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের জুন শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে খেলাপির পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে গত ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৬৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে শতকরা হারে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সাধারণত প্রতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বাড়ে আর ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক হিসাব বা ব্যালেন্স শিট তৈরি করায় সে সময় এটি কমে আসে। যে কারণে ডিসেম্বরের তুলনায় এটি বেড়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে খেলাপি ঋণের হার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবসময়ই তদারকি চালিয়ে আসছে এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি বছরের ৩০ জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৪ হাজার ৩৮৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট স্থিতির ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ খেলাপি ঋণ।
অন্যদিকে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। ওই সময় খেলাপি ছিল ২২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে ওই সময় খেলাপির হার ছিল মোট ঋণের ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। তাই টাকার অঙ্কে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়লেও শতকরা হার বিবেচনায় গত ছয় মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমেছে। জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশ। ডিসেম্বরে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। এদিকে বেসরকারি ৩০টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৭২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাষ্ট্রীয় খাতের চার বিশেষায়িত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৮৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ২১ দশমিক ৮১ শতাংশ। গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। বিদেশি নয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৫৫৩ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মোট খেলাপি ঋণের পাশাপাশি নিট খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। মোট খেলাপি ঋণ থেকে ঋণের বিপরীতে রাখা প্রভিশন ও স্থগিত সুদ বাদ দিয়ে নিট খেলাপি ঋণের হিসাব করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, জুন শেষে নিট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪১ কোটি টাকা, যা মোট নিট ঋণের ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০১০ সালের ডিসেম্বর শেষে নিট খেলাপি ঋণ ছিল ৩ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা এবং হার ছিল ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
অন্যদিকে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। ওই সময় খেলাপি ছিল ২২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে ওই সময় খেলাপির হার ছিল মোট ঋণের ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। তাই টাকার অঙ্কে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়লেও শতকরা হার বিবেচনায় গত ছয় মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমেছে। জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশ। ডিসেম্বরে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। এদিকে বেসরকারি ৩০টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৭২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাষ্ট্রীয় খাতের চার বিশেষায়িত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৮৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ২১ দশমিক ৮১ শতাংশ। গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। বিদেশি নয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৫৫৩ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মোট খেলাপি ঋণের পাশাপাশি নিট খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। মোট খেলাপি ঋণ থেকে ঋণের বিপরীতে রাখা প্রভিশন ও স্থগিত সুদ বাদ দিয়ে নিট খেলাপি ঋণের হিসাব করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, জুন শেষে নিট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪১ কোটি টাকা, যা মোট নিট ঋণের ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০১০ সালের ডিসেম্বর শেষে নিট খেলাপি ঋণ ছিল ৩ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা এবং হার ছিল ১ দশমিক ২৮ শতাংশ।
Comments
Post a Comment