শেয়ার বাইব্যাক আইনের খসড়া চূড়ান্ত বিধান ভঙ্গে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

শেয়ার বাইব্যাক করার ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ক্রয় করা শেয়ার বাতিল বা ধ্বংস করতে হবে। এছাড়া পরবর্তী ২৪ মাসের মধ্যে একই ধরনের শেয়ার ইস্যু করা যাবে না; বাইব্যাক সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ, এসইসি, স্টক এঙ্চেঞ্জ ও ডিপোজিটরিতে এ সংশিস্নষ্ট সব তথ্য প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এসব বিধান ভঙ্গে ৫ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রেখে শেয়ার বাইব্যাক আইনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠেয় এক সভায় বাইব্যাক খসড়া পর্যালোচনা করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন।
২ সপ্তাহ আগে খসড়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে এ সংক্রানত্ম কমিটি। বাইব্যাক খসড়া আইন সংক্রান্ত উপকমিটির প্রধান এফবিসিসিআই-এর উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ সংবাদকে জানান, বাইব্যাক আইন করার জন্য বিভিন্ন সংস্থার মতামত নেয়া হয়েছে। তাঁদের মতামত পর্যালোচনা করে খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভায় কোম্পানি আইনে বাইব্যাক প্রসত্মাবনা প্রণয়ন করতে মনজুর আহমেদকে প্রধান করে ৭ সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটি ৬টি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত মতামত একীভূত করে ৪টি সভার মাধ্যমে বাইব্যাক খসড়া চূড়ান্ত করে। এটি করার আগে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর শেয়ার বাইব্যাক সংক্রানত্ম ধারা ২ ও ৫৭ হতে ৭০ ধারা বিষদ পর্যালোচনা করে কমিটি। ভারত, পাকিসত্মান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাইব্যাক সংক্রানত্ম আইন পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া এসইসির আইনজীবী ব্যারিস্টার এম জহিরের মতামত নিয়ে খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
খসড়ায় ্পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি-কে বাইব্যাক বিধিমালা চূড়ানত্ম করার ৰমতা দেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক সংশিস্নষ্ট দুটি পর্যালোচনা এসইসি বিধিমালায় অনত্মভর্ুক্ত করবে বলে সুপারিশ করেছে ওই কমিটি। পর্যালোচনা দুটি হচ্ছে : ব্যাংক কোম্পানি আইন বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন দ্বারা পরিচালিত কোম্পানির বাইব্যাক করার ৰেত্রে বাংলাদেশের ব্যাংকের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা অনত্মভর্ুক্ত করা এবং বাইব্যাক করার ফলে কোম্পানির রিজার্ভের পরিবর্তন কীভাবে সংশিস্নষ্ট কোম্পানি আর্থিক বিবরণীতে প্রতিফলিত হবে; এ দুটো বিষয় এসইসি বিধিমালায় অনত্মর্ভুক্ত করার সুপারিশ জানিয়েছে কমিটি।
এছাড়া বাইব্যাক আইনের খসড়ায় কোম্পানি আইনের ৫৭(২) ধারার নতুন (ঙ) সংযোজন করে শেয়ার প্রিমিয়াম এ্যাকাউন্ট হতে শেয়ার বাইব্যাক এর জন্য অতিরিক্ত তহবিল যোগ করা হয়েছে। এসইসির অনুমোদন নিয়ে ৫৭ হতে ৭০ ধারার স্থলে ৫৮ এর (ক) অনুযায়ী শেয়ার বাইব্যক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ৫৮(৩)-এ বাইব্যাকের বিধান লঙ্ঘনে ৫ হাজার টাকার স্থলে ৫ লাখ টাকা জরিমানার প্রসত্মাব করা হয়েছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে : শেয়ার বাইব্যাকের পরিমাণ মোট পরিশোধিত মূলধনের ১৫ ভাগের বেশি হবে না। ফ্রি রিজার্ভের শেয়ার প্রিমিয়াম হিসাব হতে শতকরা ১০ ভাগের বেশি অর্থ বাইব্যাকে ব্যয় করা যাবে না। কোম্পানির দায় এর মোট মূলধন ও ফ্রি রিজার্ভের দ্বিগুণের বেশি হবে না। ফ্রি রিজার্ভ বলতে বোঝানো হয়েছে বিধিবদ্ধ রিজার্ভ ছাড়া পুঞ্জীভূত মুনাফা ও সাধারণ রিজার্ভ। খসড়া অনুসারে কোম্পানি এসইসি-এর অনুমোদনক্রমে নিজস্ব অথবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বা কোন ৩য় পৰের কোম্পানির মাধ্যমে বাজার হতে আনুপাতিকহারে ৯০ দিনের মধ্যে শেয়ার বাইব্যাক করবে। তবে বাইব্যাক করার আগে ওই কোম্পানিকে অঙ্গীকার করতে হবে যে শেয়ার বাইব্যাকের ৩৬৫ দিনের মধ্যে দেউলিয়া হবে না।
উলেস্নখ্য, চলতি বছরের শুরম্নর দিকে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর সরকার কোম্পানি আইন সংস্কার করে বাইব্যাক অনত্মর্ভুক্ত করার সিদ্ধানত্ম গ্রহণ করে। এটি কোম্পানি আইনের অংশ বলে বাইব্যাক মূলত কোম্পানি আইনে অনত্মর্ভুক্ত হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে কোম্পানি পরিবর্তন করে বাইব্যাক ধারা অনত্মর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাই ব্যাক হলো- প্রিমিয়ামসহ কোন শেয়ারের প্রাথমিক মূল্যে বাজারে আসার পর ওই মূল্যের কম দামে শেয়ার বিক্রি হলে ওই কোম্পানি তখন বাজার থেকে নিজেদের শেয়ার কিনে নিতে বাধ্য হবে। এটি হলে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের আইন চালু থাকলেও বর্তমান কোম্পানি আইনে এ নিয়ম নেই। দেশের পুঁজিবাজারে সামপ্রতিক ধসের পর এ নিয়ম চালুর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।

http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=34&dd=2011-08-18&ni=68264

Comments