ডলারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়াছে মূল্যস্ফীতি


ঢাকা: ব্যাংক ও খোলা বাজারে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। এ অবস্থায় ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মত দিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তারা।

জানা যায়, বাজারে ডলারের দামে অস্থিরতা চলছে। বিশ্বের প্রায় দেশে যেখানে ডলারের দাম কমছে সেখানে একমাত্র বাংলাদেশে এর দাম বাড়ছে। মূলত রেমিটেন্স ও রফতানি আয়ের কারণে ডলারের দাম বাড়তি দেখানো হচ্ছে। এর ফলে সার্বিকভাবে পণ্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। আমদানি ঋণপত্র খুলতে গিয়ে ডলারের পাশাপাশি ইউরোও ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু তাতে করে গড় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকারক দেশ হিসাবে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। যদিও ভাসমান বিনিময় হার নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

বিশ্ব বাজারে ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এ বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে সরকারে সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, মূলত তিন কারণে ডলারের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে ডলারের সরবরাহ বা চাহিদার তুলনায় যোগান কম, আমদানি বৃদ্ধির চেয়ে রপ্তানি বেশি এবং রেমিটেন্সের হার কমে যাওয়া।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান মুদ্রা নীতির কারণে ডলারের বাড়তি দাম অব্যাহত থাকলে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়ে যাবে। তাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে না। মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিও কার্যকারিতা হারাবে বলে মনে কারেন এই অর্থনীতিবিদ।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন্ট রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সামগ্রীকভাবে আমদানি পণ্যের দাম বেশি হবে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। তারা বলেছেন, প্রকৃত বিনিময় হার কার্যকর করা হলে টাকার মান বৃদ্ধি পেত। টাকার বিপরীতে ডলার দুর্বল হত। তাতে আমদানি পণ্যের দামও কম হতো। তারা আরও বলেছেন, বর্তমানে ডলার ছাড়াও যেহেতু অন্য মুদ্রায় আমদানি ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে, তাই ডলারের বাড়তি দাম ধরে রাখার কোন যুক্তি নেই। বরং টাকা ও ডলারের মূল্যমান প্রকৃত বাজারভিত্তিক করে দেয়াই উত্তম।

মুদ্রা বাজার: দিন দিন ডলারের বাজার চড়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম বেশি হলে বেশি মূল্যে পণ্য কেনার দায় পড়বে ক্রেতাদের ওপর। সেদিকে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না। ফলে দাম বাড়তে বাড়তে ব্যাংকেই ডলারের দাম এখন ৭৭ টাকার বেশি। কার্ব মার্কেটে তা ৭৯ টাকা পর্যন্ত গড়িয়েছে। অথচ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ৭১ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ডলারের কেনাবেচা হয়। ডিসেম্বরেও ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ছিল কমবেশি ৭০ টাকা। এ সময়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৭২ টাকা। স্বাভাবিকভাবে আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক মাস ধরেই চাহিদামত ডলার না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে তৃতীয় মুদ্রায় এলসি খুলতে হচ্ছে। থার্ড কারেন্সি (ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা পাউন্ড) কিনতেও বেশি দাম দিতে হয়। তাতে গড়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়।

http://businesstimes24.com/?p=757


Comments