মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারের বাইরে অন্যান্য দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভালো করেছে বাংলাদেশ। আগের বছরের চেয়ে নতুন বাজারগুলোয় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। মোট পোশাক রপ্তানি আয়ে নতুন বাজারের অংশও বেড়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সেখানে নতুন বাজার বলে পরিচিত ১১টি দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ।
পোশাক রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু চলতি অর্থবছর থেকে তুরস্কে সেফগার্ড ডিউটি, জাপানের অর্থনীতির সংকট ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছর ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডার বাইরে ১১টি দেশে বাংলাদেশ মোট ১৩৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের (১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার) পোশাক রপ্তানি করে, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার বেশি। নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি মোট রপ্তানির ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। আগের বছর মোট রপ্তানির ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ রপ্তানি হয়েছিল নতুন বাজারে।
গত অর্থবছর মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭ দশমিক ৯১৪ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। আগের বছর ১২ দশমিক ৪৯৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ ভাগ হয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায়। ইউরোপে রপ্তানি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক, আমেরিকায় ৪ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। আর কানাডায় রপ্তানি হয়েছে ৮৯৪ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক।
নতুন বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে বিজিএমইএ'র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পোশাক খাতের পুরোনো বাজারের অবস্থা ভালো নয়। ফলে নতুন বাজার ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এ জন্য আমরা এ বছর লাতিন আমেরিকায় সফরে যাব। গত বছর সেখানে সফরে গিয়ে ভালো ফল পাওয়া গিয়েছিল।'
নতুন বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে তুরস্ক, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায়। তুরস্কে ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, জাপানে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার ও অস্ট্রেলিয়ায় ১৯ কোটি ২৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। কিন্তু এই তিন বাজারেই আগামীতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে পোশাক শিল্প মালিকরা তিন দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করছেন।
তাদের মতে, তুরস্ক তাদের নিজের পোশাক খাতকে সুরক্ষা দিয়ে ১৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। যার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই শুল্কের বাইরে রাখার আবেদন করা হলেও তুরস্ক সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। জাপানে সুনামির কারণে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় যে হারে প্রবৃদ্ধির আশা করা হয়েছিল তার চেয়ে কম হবে। এ সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার খুচরা বিক্রয় জুন মাসে আগের মাসের তুলনায় ০.১ শতাংশ কমে গেছে। এ অবস্থায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, দেশে ক্রেতাদের আস্থা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি ১.২ শতাংশ সংকুচিত হয়।
পুরনো বাজারের মধ্যে আমেরিকা ও ইউরোপের ঋণ সংকট নিয়েও শঙ্কায় পোশাক মালিকরা। তাঁরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখন বেকারত্বের হার ৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.১ শতাংশ হয়েছে। গ্রিস, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালসহ ইউরোপের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে আছে। সেখানে অর্থনৈতিক মন্দা দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউরোপের কিছু দেশে পোশাকের খুচরা বিক্রি কমে গেছে। প্রধান প্রধান অর্থনীতির দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে ভোক্তারা ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
নতুন বাজার সম্প্রসারণে সরকার নগদ সহায়তা দেয়। তবে দেশীয় কাপড় ব্যবহারকারীরা সে সহায়তা পাচ্ছেন না। বিজিএমইএ'র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই শর্তের মাধ্যমে বিদেশি কাপড় আমদানিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কারণ দেশি কাপড় না কিনে বিদেশি কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি করলে এ প্রণোদনা পাওয়া যায়। দেশীয় টেঙ্টাইল শিল্পকে বাঁচাতে দেশীয় কাপড় ব্যবহারকারীদেরও নতুন বাজার সহায়তার প্রণোদনা দেওয়া উচিত।
২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে পণ্য রপ্তানিকারকদের মোট রপ্তানি আয়ের ৫ শতাংশ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। নতুন বাজার সহায়তা (নিউ মার্কেট ইনসেনটিভ) নামে তিন বছর মেয়াদি এ প্রণোদনা প্যাকেজের প্রথম বছর ৫ শতাংশের পর দ্বিতীয় বছরে ৩ শতাংশ ও তৃতীয় বছরে ২ শতাংশ হারে সহায়তা দেওয়ার কথা।
http://www.kalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=University&pub_no=607&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=0
পোশাক রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু চলতি অর্থবছর থেকে তুরস্কে সেফগার্ড ডিউটি, জাপানের অর্থনীতির সংকট ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছর ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডার বাইরে ১১টি দেশে বাংলাদেশ মোট ১৩৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের (১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার) পোশাক রপ্তানি করে, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার বেশি। নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি মোট রপ্তানির ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। আগের বছর মোট রপ্তানির ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ রপ্তানি হয়েছিল নতুন বাজারে।
গত অর্থবছর মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭ দশমিক ৯১৪ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। আগের বছর ১২ দশমিক ৪৯৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। মোট রপ্তানির প্রায় ৯০ ভাগ হয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায়। ইউরোপে রপ্তানি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক, আমেরিকায় ৪ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। আর কানাডায় রপ্তানি হয়েছে ৮৯৪ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক।
নতুন বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে বিজিএমইএ'র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পোশাক খাতের পুরোনো বাজারের অবস্থা ভালো নয়। ফলে নতুন বাজার ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এ জন্য আমরা এ বছর লাতিন আমেরিকায় সফরে যাব। গত বছর সেখানে সফরে গিয়ে ভালো ফল পাওয়া গিয়েছিল।'
নতুন বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে তুরস্ক, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায়। তুরস্কে ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, জাপানে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার ও অস্ট্রেলিয়ায় ১৯ কোটি ২৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। কিন্তু এই তিন বাজারেই আগামীতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর কারণ হিসেবে পোশাক শিল্প মালিকরা তিন দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করছেন।
তাদের মতে, তুরস্ক তাদের নিজের পোশাক খাতকে সুরক্ষা দিয়ে ১৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। যার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই শুল্কের বাইরে রাখার আবেদন করা হলেও তুরস্ক সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। জাপানে সুনামির কারণে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় যে হারে প্রবৃদ্ধির আশা করা হয়েছিল তার চেয়ে কম হবে। এ সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার খুচরা বিক্রয় জুন মাসে আগের মাসের তুলনায় ০.১ শতাংশ কমে গেছে। এ অবস্থায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, দেশে ক্রেতাদের আস্থা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি ১.২ শতাংশ সংকুচিত হয়।
পুরনো বাজারের মধ্যে আমেরিকা ও ইউরোপের ঋণ সংকট নিয়েও শঙ্কায় পোশাক মালিকরা। তাঁরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখন বেকারত্বের হার ৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.১ শতাংশ হয়েছে। গ্রিস, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগালসহ ইউরোপের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে আছে। সেখানে অর্থনৈতিক মন্দা দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউরোপের কিছু দেশে পোশাকের খুচরা বিক্রি কমে গেছে। প্রধান প্রধান অর্থনীতির দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে ভোক্তারা ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
নতুন বাজার সম্প্রসারণে সরকার নগদ সহায়তা দেয়। তবে দেশীয় কাপড় ব্যবহারকারীরা সে সহায়তা পাচ্ছেন না। বিজিএমইএ'র সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই শর্তের মাধ্যমে বিদেশি কাপড় আমদানিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কারণ দেশি কাপড় না কিনে বিদেশি কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি করলে এ প্রণোদনা পাওয়া যায়। দেশীয় টেঙ্টাইল শিল্পকে বাঁচাতে দেশীয় কাপড় ব্যবহারকারীদেরও নতুন বাজার সহায়তার প্রণোদনা দেওয়া উচিত।
২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে পণ্য রপ্তানিকারকদের মোট রপ্তানি আয়ের ৫ শতাংশ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। নতুন বাজার সহায়তা (নিউ মার্কেট ইনসেনটিভ) নামে তিন বছর মেয়াদি এ প্রণোদনা প্যাকেজের প্রথম বছর ৫ শতাংশের পর দ্বিতীয় বছরে ৩ শতাংশ ও তৃতীয় বছরে ২ শতাংশ হারে সহায়তা দেওয়ার কথা।
http://www.kalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=University&pub_no=607&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=0
Comments
Post a Comment