শেয়ার কেলেঙ্কারি এবার তদন্তের আওতায় আসছেন আইসিবির কর্মীরা

পুঁজিবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতরা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে থেকে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানোর কাজ করেছে_এমন নজির এর আগেই পেয়েছিল শেয়ারবাজার সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। এ প্রক্রিয়ায় আইসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ জড়িত ছিল কি-না, সে বিষয়টি এখন তদন্ত করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সরকারি বিনিয়োগ ব্যাংকটির সহযোগী কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ তদন্তের আওতায় আসবে। আইসিবির বিভিন্ন পোর্টফোলিওতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত ছিল কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি উদ্ঘাটিত হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ কমিটিকে ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মূলধন মার্কেট অধিশাখা থেকে গত ২৪ জুলাই জারি করা এক বলা হয়েছে, 'ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা (সাবসিডিয়ারীতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ) কোনো দুর্নীতিতে জড়িত কি-না, তা খতিয়ে দেখার জন্য সরকার কর্তৃক নিম্নোক্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।' তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীরকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন মহাব্যবস্থাপক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. মামুন আল রশীদ।
কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী, সাবসিডিয়ারিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আইসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সাতটি বিষয় খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। তবে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অন্যান্য যেকোনো বিষয়ও খতিয়ে দেখবে কমিটি।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি আইসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (সাবসিডিয়ারিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ) শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি থাকলে তা উদ্ঘাটন করবে। এ ছাড়া পুঁজিবাজার অস্থিতিশীলতা ও ম্যানুপুলেশনের সঙ্গে তারা জড়িত ছিল কি-না, তাও খতিয়ে দেখবে। এ ছাড়া আইসিবির বিভিন্ন পোর্ট ফোলিওতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত ছিল কি-না, তা যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।
ভবিষ্যতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশও করবে তদন্ত কমিটি। তিন সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে প্রধান করে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি তদন্তে গঠিত কমিটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য পেয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও আইসিবি ট্রিগার ক্রয়ে বড় আকারে যোগ দিয়েছে। ২০০৯ সালের অক্টোবরে আইসিবি সাতটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্রয় করেছে ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার। নভেম্বরে ছয়টি অমনিবাস অ্যাকাউন্টে আইসিবি কিনেছে ৩৪০ কোটি টাকার শেয়ার। আইসিবির অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে লুকানো রয়েছে পরিচয় গোপনকারী খেলোয়াড়রা। আইসিবি দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না। ২০০৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বর সময়ে শেয়ারবাজার যখন ঊর্ধ্বমুখী তখনো আইসিবি আটটি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কিনেছে এক হাজার ১৪৩ কোটি টাকার শেয়ার। ২০১০ সালের নভেম্বরে পুঁজিবাজার উত্থানের সময় আইসিবি ৯টি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এক হাজার ৩৭১ কোটি টাকার ও ডিসেম্বরে ৯টি অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৯৭৭ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। শেয়ারবাজার পতনের দুই মাসে আইসিবির মোট বিক্রি দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো। কাজেই শেয়ারবাজারের উত্থান ও পতন_উভয় সময়ই সিন্ডিকেট সদস্যরা আইসিবির অমনিবাস অ্যাকাউন্টের আড়ালে খেলা করেছিল, এটা প্রায় নিশ্চিত।

http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=College&pub_no=599&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=0


এসইসির দুই নির্বাহীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিইতিমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কমিটিকে ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নিজস্ব প্রতিবেদক
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দুই নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভঁূইয়া এবং এ টি এম তারিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটি উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন_ কমিশন সদস্য অধ্যাপক হেলালউদ্দীন নিজামী ও মো. আমজাদ হোসেন।
এ বিষয়ে এসইসি সদস্য হেলালউদ্দীন নিজামী গতকাল রবিবার বলেন, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিনি জানান, কমিশনের সাবেক সদস্য মনসুর আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্মপ্রক্রিয়া প্রস্তুত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=College&pub_no=599&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=1




পুঁজিবাজারে কারসাজি

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে প্রস্তুত এসইসি


পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ধসের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারসাজির দায়ে অভিযুক্ত বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। সংঘবদ্ধ ও কৃত্রিম (আর্টিফিশিয়াল) লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এরই মধ্যে আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এ মামলা দায়ের করা হতে পারে।
আজ রোববার এসইসির সদস্য হেলালউদ্দীন নিজামী সাংবাদিকদের জানান, পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশের ভিত্তিতে এসইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। অনেক বিষয়ে ধীরগতি লক্ষ করা গেলেও এসইসি দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
হেলালউদ্দীন বলেন, পুঁজিবাজারে কারসাজির দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের (পিটিশন সাবমিট) জন্য কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্লক প্লেসমেন্ট ও ৫০টি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কারসাজির সঙ্গে জড়িতরা যাতে আবারও সক্রিয় হতে না পারে, সে লক্ষ্যে আইন ও বিধি-বিধান সংশোধনের পাশাপাশি মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার নিয়ে কারসাজির দায়ে বিনিয়োগকারী সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা, তাঁর স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া ও মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য অভিযোগনামা প্রস্তুত করেছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হতে পারে।
এ দিকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত বছরের ৬ ও ৭ ডিসেম্বর চেক ও নেটিং বিষয়ে দুটি নির্দেশনা জারির অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসইসির সাবেক সদস্য মনসুর আলমের বিরুদ্ধে টার্মস অব রেফারেন্স (কর্মপ্রক্রিয়া) প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এসইসি সদস্য হেলালউদ্দীন নিজামী বলেন, কমিশনের সাবেক সদস্য মনসুর আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য কর্মপ্রক্রিয়া প্রস্তুত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় তার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া কমিশনের নির্বাহী দুই পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া এবং এ টি এম তারিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন এসইসি সদস্য হেলালউদ্দীন নিজামী ও সদস্য মো. আমজাদ হোসেন।


http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-07-31/news/174460

Comments