বেশি মুনাফা 'দেখানো' বন্ধের উদ্যোগ

(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- আর্থিক বিবরণীতে বেশি মুনাফা দেখিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজার থেকে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে 'ডেফার্ড ট্যাক্স হিসাব সংরক্ষণ' শিরোনামে একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ।

এতে বলা হয়েছে, খেলাপি বা শ্রেণীকৃত ঋণ 'আদায়' ও কর 'মওকুফ' হয়ে যাবে ধরে নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে 'অতিরিক্ত' মুনাফা দেখাচ্ছে। এ কারণে ঋণ বা বিনিয়োগের ভিত্তিতে 'ডেফার্ড কর সম্পদ' হিসাব করে তা আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ রোববার সার্কুলার আকারে এই নীতিমালা সব ব্যাংকে প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করে শ্রেণীকৃত (খেলাপী) ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সংস্থান ( প্রভিশন) সংরক্ষণ করলেও কোনো কোনো ব্যাংক এসব ঋণ আদায় হয়ে যাবে বা অবলোপিত হবে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য বা বিলম্বিত কর সম্পদ (ডেফার্ড ট্যাক্স অ্যাসেট) হিসাব সৃষ্টি করে আর্থিক বিবরণী তৈরি করছে।"

এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর পরবর্তী মুনাফা ও সম্পত্তির পরিমাণ 'স্ফীত' হচ্ছে উল্লেখ করে সার্কুলারে বলা হয়, "ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা প্রতিফলনের লক্ষ্যে আর্থিক বিবরণীতে 'ডেফার্ড কর সম্পদ' ও 'ডেফার্ড কর দায়' সংক্রান্ত হিসাব অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এই নীতিমালা জারি করা হলো।"

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক বিবরণীতে অধিকতর স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন এনসিসি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী নুরুল আমিন।

নীতিমালায় বলা হয়েছে- ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে রক্ষিত সংস্থানের ওপর ভিত্তি করে 'ডেফার্ড কর সম্পদ' হিসাবভুক্ত করা যাবে না। যেসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কর রেয়াত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে- সেগুলো আর্থিক প্রতিবেদনে যুক্ত করা হলে আলাদাভাবে তার ব্যাখ্যাও যুক্ত করতে হবে।

বিলম্বিত বা ডেফার্ড করের তথ্য কোনোভাবেই নিট ব্যালেন্স শিটের হিসাবে আনা যাবে না। আয়কর হিসাব করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব আইন ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে আর্থিক বিবরণীর ব্যাখ্যামূলক অংশে (নোটস টু দি অ্যাকাউন্টস) উল্লেখ করতে হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'জনস্বার্থে' এই নির্দেশনা জারি করেছে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "খেলাপি বা শ্রেণীকৃত ঋণ আদায় হয়ে যাবে- এই বিবেচনায় সম্পদের হিসাব করে মুনাফা বেশি দেখানোর প্রবণতা কোনো কোনো ব্যাংকের রয়েছে। এটি বন্ধ করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা দিল।"

আর্থিক বিবরণীতে মুনাফা বেশি দেখানোর মাধ্যমে কোনো কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Comments