আঙ্কটাডের প্রতিবেদন
দেশে ২০১০ সালে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৬ হাজার ৭৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকা (৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার)। যা ২০০৯ সালের চেয়ে এক হাজার ৫৭৬ কোটি ২০ লাখ টাকা (২১ কোটি ৩০ লাখ ডলার) বেশি। তবে ২০০৮ সালের চেয়ে এ বিনিয়োগ এক হাজার ২৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা (১৭৩ মিলিয়ন ডলার) কম। পাশাপাশি এক বছরে দেশে এফডিআই ৩০ শতাংশ বেড়েছে। যার এক-তৃতীয়াংশই এসেছে টেলিকম খাতে।
ইউনাইটেড ন্যাশনস কনফারেন্স অন ট্রেড এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড) প্রকাশিত বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০১১-তে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার সমগ্র পৃথিবীতে একযোগে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশেও বিনিয়োগ বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ইসমাইল হোসেন বিনিয়োগ বোর্ডের পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। এ সময় বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. এমএ সামাদ, বেসরকারীকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মীর্জা আজিজসহ বোর্ডের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে সারাবিশ্বে বিদেশী বিনিয়োগ ৫ শতাংশ বেড়েছে। যার পরিমাণ ১ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে তা ২০০৭ সালের চেয়ে ৩৭ শতাংশ কম।
ড. ইসমাইল জানান, বাংলাদেশে ২০১০ সালে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। যার পরিমাণ ২ হাজার ৩৪৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা (৩১৭ মিলিয়ন ডলার)। এছাড়া ভারতের বিনিয়োগও আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০০৯ সালে দেশটি এদেশে বিনিয়োগ করেছে ৭৪ কোটি (১০ মিলিয়ন ডলার)। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৮ কোটি ২০ লাখ টাকায় (৪৩ মিলিয়ন ডলারে)।
ড. ইসমাইল বলেন, গতবছর নিবন্ধিত বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে ৩ হাজার ১শ' ৩৮ মিলিয়ন ডলার, যা এর আগের বছরের চেয়ে ৩শ' ৭২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে ২০১০ সালে বিনিয়োগ হয়েছে ৬ হাজার ২শ' ৭৬ মিলিয়ন ডলার। যা এর আগের বছরের চেয়ে ১শ' ৪২ শতাংশ বেশি।
তবে খাদ্য উৎপাদন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে। ২০১০ সালে এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৮৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা (১২ মিলিয়ন ডলার), ২০০৯ সালে যা ছিল ১শ' ৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা (২৪ মিলিয়ন ডলার)।
আঙ্কটাড প্রতিবেদন অনুযায়ী গতবছর সবচেয়ে বেশি বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে টেলিকম খাতে। ২০১০সালে এ খাতে মোট ২ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা (৩৬ কোটি ডলার) বিনিয়োগ এসেছে। অন্যদিকে, উৎপাদন খাতে এসেছে এক হাজার ৭৬১ কোটি ২০ লাখ টাকা (২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার)। উৎপাদন খাতের অধীনে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে এক হাজার ৭৩ কোটি টাকা (১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার)। অপরদিকে চামড়া শিল্পে এ বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৪০ কোটি ৪০ লাখ টাকা (৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার)। ব্যাংকিং খাতে এক হাজার ২০৬ কোটি ২০ লাখ টাকা (১৬৩ মিলিয়ন ডলার), বিদু্যত-গ্যাস ও জ্বালানি খাতে ৬৮০ কোটি ৮০ লাখ টাকা (৯২ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে এ চার খাতে মোট ৩০৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (৪১ মিলিয়ন ডলার) বেশি বিনিয়োগ এসেছে।
বাংলাদেশের দ্রম্নত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং বৃহৎ বাজার থাকায় এফডিআই ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এসএ সামাদ।
তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে যদি আমাদের জিডিপি ৮ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয় তবে বিদেশী বিনিয়োগ এ দেশে উপচে পড়বে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চীনে শ্রমের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় অতি জনসংখ্যার এ দেশটি বিনিয়োগকারীদের প্রধান পছন্দের জায়গা হতে পারে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেয়ে পুরনো প্রতিষ্ঠানে অর্থ লগি্নতেই বেশি আগ্রহ। এতে দেশের অর্থনীতি সমপ্রসারণ হচ্ছে না বলে মনে করেন এসএ সামাদ। তিনি একইসঙ্গে বলেন, বিদ্যমান কোন প্রতিষ্ঠান কিনবে, নাকি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে সেটা একানত্মই তাদের (বিদেশী বিনিয়োগকারীদের) ব্যাপার।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামরিক বাহিনীর হসত্মক্ষেপ, সরকারী খাতগুলোর দুর্বলতা, আমলাতন্ত্র এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ অন্যতম ঝুঁকি বলে চিহ্নিত। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির পর্যায়ক্রমিক হ্রাস পাওয়াকে আশাব্যঞ্জক দাবি করে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন, যদি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়, তবে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কাছে পেঁৗছে যাবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ যদি পরপর তিনটি বছর ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ ধরে রাখে তাহলে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে যাবে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আড়ালে এক ধরনের সেনাশাসন থাকলেও বিনিয়োগ বেশি হওয়ার কথা তুলে ধরলে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৮ সালে টেলিকম খাতে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে। তবে ওই প্রবাহ ধরে রাখতে মহাজোট সরকার বিশেষভাবে কাজ করছে। ১০/১২ পাতার নিবন্ধন প্রক্রিয়া এক পাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিদেশী কোন বিনিয়োগকারী যাতে ফিরে না যায় সেজন্য পৃথিবীর যে কোন দেশ থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরম্ন করতে পারেন। এ লৰ্যে বিনিয়োগ বোর্ড এ সহজীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, বিশ্বখ্যাত পানীয় প্রতিষ্ঠান কোকাকোলা বাংলাদেশে একটি পস্ন্যান্ট স্থাপনে ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এছাড়া বিশ্বের সর্ববৃহৎ গ্যাস উত্তোলনকারী রম্নশ প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমও বাংলাদেশে কার্যালয় স্থাপনের আগ্রহ দেখিয়েছে বলে তিনি জানান। সরকার গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ পেতে গ্যাজপ্রমের সঙ্গে চুক্তির করার আলোচনা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বৈশ্বিক চিত্র ॥ বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে দৰিণ এশিয়া বিনিয়োগ আকর্ষণের দিক থেকে খুব একটা ভাল অবস্থানে পেঁৗছতে পারেনি। অন্যদিকে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে হংকং। তাইওয়ানও রয়েছে খুবই ভাল অবস্থানে। তাইওয়ানের মতো দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে বলেই এই অবস্থানে পেঁৗছতে পারছে এ দেশটি। এশিয়ার মধ্যে পূর্ব ও দৰিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে লাটিন আমেরিকার দেশগুলোতেও।
বিনিয়োগ আকর্ষণের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া ও দৰিণ এশিয়ার দেশগুলো।
আঙ্কটাড জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংস্থা। এ সংস্থাটি উন্নয়নশীল বিশ্বে বিনিয়োগ প্রবাহ নিয়ে কাজ করে। পৃথিবীর সবগুলো দেশে একযোগে বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ১৯৩টি দেশ জেনেভাভিত্তিক এ সংস্থাটির সদস্য।
বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০১১-এর শুরম্নতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, 'যদিও আমরা বিশ্ব মহামন্দার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে পারিনি। তবে কিছু কিছু এলাকায় বিনিয়োগ প্রবাহ অত্যনত্ম ইতিবাচক অবস্থায় পৌছেছে। বিশ্বজুড়ে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মহামন্দা সত্বেও বিনিয়োগ প্রবাহ বেড়েছে। আগামী দুই বছর এই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারলেই ওই মহামন্দার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারব। ফলে বিশ্ব এগিয়ে যাবে সহাস্রাব্দ উন্নয়ন লৰ্যমাত্রার দিকে।'
আঙ্কটাডের মহাসচিব সুপাচাই পানিচ্পাকদি বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হচ্ছে বিনিয়োগ প্রবাহ। দুই বছর আগের মহামন্দা থেকে অনেক দেশ দ্রম্নত বেড়িয়ে যেতে পারলেও দরিদ্র দেশগুলোর ৰেত্রে একটু সময় লাগবে। স্বল্পোন্নত এ দেশগুলো বিনিয়োগ খরায় ভুগছে। জাতীয় ও আনত্মর্জাতিক নীতিগত উন্নয়নের দ্বারা বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে পারলেই সার্বিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=34&dd=2011-07-27&ni=66092
দেশে ২০১০ সালে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৬ হাজার ৭৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকা (৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার)। যা ২০০৯ সালের চেয়ে এক হাজার ৫৭৬ কোটি ২০ লাখ টাকা (২১ কোটি ৩০ লাখ ডলার) বেশি। তবে ২০০৮ সালের চেয়ে এ বিনিয়োগ এক হাজার ২৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা (১৭৩ মিলিয়ন ডলার) কম। পাশাপাশি এক বছরে দেশে এফডিআই ৩০ শতাংশ বেড়েছে। যার এক-তৃতীয়াংশই এসেছে টেলিকম খাতে।
ইউনাইটেড ন্যাশনস কনফারেন্স অন ট্রেড এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড) প্রকাশিত বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০১১-তে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার সমগ্র পৃথিবীতে একযোগে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশেও বিনিয়োগ বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ইসমাইল হোসেন বিনিয়োগ বোর্ডের পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। এ সময় বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. এমএ সামাদ, বেসরকারীকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মীর্জা আজিজসহ বোর্ডের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে সারাবিশ্বে বিদেশী বিনিয়োগ ৫ শতাংশ বেড়েছে। যার পরিমাণ ১ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে তা ২০০৭ সালের চেয়ে ৩৭ শতাংশ কম।
ড. ইসমাইল জানান, বাংলাদেশে ২০১০ সালে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। যার পরিমাণ ২ হাজার ৩৪৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা (৩১৭ মিলিয়ন ডলার)। এছাড়া ভারতের বিনিয়োগও আগের তুলনায় বেড়েছে। ২০০৯ সালে দেশটি এদেশে বিনিয়োগ করেছে ৭৪ কোটি (১০ মিলিয়ন ডলার)। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৮ কোটি ২০ লাখ টাকায় (৪৩ মিলিয়ন ডলারে)।
ড. ইসমাইল বলেন, গতবছর নিবন্ধিত বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে ৩ হাজার ১শ' ৩৮ মিলিয়ন ডলার, যা এর আগের বছরের চেয়ে ৩শ' ৭২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে ২০১০ সালে বিনিয়োগ হয়েছে ৬ হাজার ২শ' ৭৬ মিলিয়ন ডলার। যা এর আগের বছরের চেয়ে ১শ' ৪২ শতাংশ বেশি।
তবে খাদ্য উৎপাদন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে। ২০১০ সালে এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৮৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা (১২ মিলিয়ন ডলার), ২০০৯ সালে যা ছিল ১শ' ৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা (২৪ মিলিয়ন ডলার)।
আঙ্কটাড প্রতিবেদন অনুযায়ী গতবছর সবচেয়ে বেশি বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে টেলিকম খাতে। ২০১০সালে এ খাতে মোট ২ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা (৩৬ কোটি ডলার) বিনিয়োগ এসেছে। অন্যদিকে, উৎপাদন খাতে এসেছে এক হাজার ৭৬১ কোটি ২০ লাখ টাকা (২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার)। উৎপাদন খাতের অধীনে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছে এক হাজার ৭৩ কোটি টাকা (১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার)। অপরদিকে চামড়া শিল্পে এ বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৪০ কোটি ৪০ লাখ টাকা (৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার)। ব্যাংকিং খাতে এক হাজার ২০৬ কোটি ২০ লাখ টাকা (১৬৩ মিলিয়ন ডলার), বিদু্যত-গ্যাস ও জ্বালানি খাতে ৬৮০ কোটি ৮০ লাখ টাকা (৯২ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে এ চার খাতে মোট ৩০৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (৪১ মিলিয়ন ডলার) বেশি বিনিয়োগ এসেছে।
বাংলাদেশের দ্রম্নত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং বৃহৎ বাজার থাকায় এফডিআই ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এসএ সামাদ।
তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে যদি আমাদের জিডিপি ৮ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয় তবে বিদেশী বিনিয়োগ এ দেশে উপচে পড়বে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চীনে শ্রমের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় অতি জনসংখ্যার এ দেশটি বিনিয়োগকারীদের প্রধান পছন্দের জায়গা হতে পারে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেয়ে পুরনো প্রতিষ্ঠানে অর্থ লগি্নতেই বেশি আগ্রহ। এতে দেশের অর্থনীতি সমপ্রসারণ হচ্ছে না বলে মনে করেন এসএ সামাদ। তিনি একইসঙ্গে বলেন, বিদ্যমান কোন প্রতিষ্ঠান কিনবে, নাকি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে সেটা একানত্মই তাদের (বিদেশী বিনিয়োগকারীদের) ব্যাপার।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামরিক বাহিনীর হসত্মক্ষেপ, সরকারী খাতগুলোর দুর্বলতা, আমলাতন্ত্র এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ অন্যতম ঝুঁকি বলে চিহ্নিত। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির পর্যায়ক্রমিক হ্রাস পাওয়াকে আশাব্যঞ্জক দাবি করে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন, যদি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৩০ শতাংশে উন্নীত হয়, তবে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কাছে পেঁৗছে যাবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ যদি পরপর তিনটি বছর ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ ধরে রাখে তাহলে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে যাবে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আড়ালে এক ধরনের সেনাশাসন থাকলেও বিনিয়োগ বেশি হওয়ার কথা তুলে ধরলে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৮ সালে টেলিকম খাতে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে। তবে ওই প্রবাহ ধরে রাখতে মহাজোট সরকার বিশেষভাবে কাজ করছে। ১০/১২ পাতার নিবন্ধন প্রক্রিয়া এক পাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিদেশী কোন বিনিয়োগকারী যাতে ফিরে না যায় সেজন্য পৃথিবীর যে কোন দেশ থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরম্ন করতে পারেন। এ লৰ্যে বিনিয়োগ বোর্ড এ সহজীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, বিশ্বখ্যাত পানীয় প্রতিষ্ঠান কোকাকোলা বাংলাদেশে একটি পস্ন্যান্ট স্থাপনে ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এছাড়া বিশ্বের সর্ববৃহৎ গ্যাস উত্তোলনকারী রম্নশ প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমও বাংলাদেশে কার্যালয় স্থাপনের আগ্রহ দেখিয়েছে বলে তিনি জানান। সরকার গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ পেতে গ্যাজপ্রমের সঙ্গে চুক্তির করার আলোচনা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বৈশ্বিক চিত্র ॥ বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে দৰিণ এশিয়া বিনিয়োগ আকর্ষণের দিক থেকে খুব একটা ভাল অবস্থানে পেঁৗছতে পারেনি। অন্যদিকে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে হংকং। তাইওয়ানও রয়েছে খুবই ভাল অবস্থানে। তাইওয়ানের মতো দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে বলেই এই অবস্থানে পেঁৗছতে পারছে এ দেশটি। এশিয়ার মধ্যে পূর্ব ও দৰিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে লাটিন আমেরিকার দেশগুলোতেও।
বিনিয়োগ আকর্ষণের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া ও দৰিণ এশিয়ার দেশগুলো।
আঙ্কটাড জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংস্থা। এ সংস্থাটি উন্নয়নশীল বিশ্বে বিনিয়োগ প্রবাহ নিয়ে কাজ করে। পৃথিবীর সবগুলো দেশে একযোগে বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ১৯৩টি দেশ জেনেভাভিত্তিক এ সংস্থাটির সদস্য।
বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০১১-এর শুরম্নতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, 'যদিও আমরা বিশ্ব মহামন্দার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে পারিনি। তবে কিছু কিছু এলাকায় বিনিয়োগ প্রবাহ অত্যনত্ম ইতিবাচক অবস্থায় পৌছেছে। বিশ্বজুড়ে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মহামন্দা সত্বেও বিনিয়োগ প্রবাহ বেড়েছে। আগামী দুই বছর এই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারলেই ওই মহামন্দার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারব। ফলে বিশ্ব এগিয়ে যাবে সহাস্রাব্দ উন্নয়ন লৰ্যমাত্রার দিকে।'
আঙ্কটাডের মহাসচিব সুপাচাই পানিচ্পাকদি বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হচ্ছে বিনিয়োগ প্রবাহ। দুই বছর আগের মহামন্দা থেকে অনেক দেশ দ্রম্নত বেড়িয়ে যেতে পারলেও দরিদ্র দেশগুলোর ৰেত্রে একটু সময় লাগবে। স্বল্পোন্নত এ দেশগুলো বিনিয়োগ খরায় ভুগছে। জাতীয় ও আনত্মর্জাতিক নীতিগত উন্নয়নের দ্বারা বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে পারলেই সার্বিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=34&dd=2011-07-27&ni=66092
Comments
Post a Comment