তিন মাসের মধ্যে আইনের সংশোধনী চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী
শেয়ারবাজারে ধসের পর কম্পানি আইনে শেয়ার পুনরায় ক্রয়ের ধারা যোগ করার কথা ছিল। সে জন্য চার দফায় বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল শেয়ার পুনরায় ক্রয়ের ধারা সংযুক্ত নয়; পুরো কম্পানি আইনকেই যুগোপযোগী করার প্রস্তাব দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বিদ্যমান কম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ৪০৪টি ধারার মধ্যে দুই শতাধিক ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে গতকাল। এ আইনসহ ডাইরেক্ট সেল আইন-২০১১, বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০১১ ও সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট-২০১১ জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে পাস করার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়েছে। কম্পানি আইন সংশোধনের জন্য বাণিজ্যসচিবের নেতৃত্বে ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তা ছাড়াও এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই ও মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রতিনিধিও রাখা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে কম্পানি আইনের সংশোধনী চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বিদ্যমান কম্পানি আইন-১৯৯৪ মূলত ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইনেরই সংশোধিত রূপ। ভারতের কম্পানি আইনের উৎসও একই। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অবশ্য কয়েক দফায় মূল আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। ভারতে কম্পানি আইনে শেয়ার পুনরায় ক্রয়সহ যুগোপযোগী বিভিন্ন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বিভিন্ন সময় কম্পানি আইন-১৯৯৪ কে যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে শেয়ারবাজারে ধস নামার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে শেয়ার পুনরায় ক্রয়ের বিধান করার অনুরোধ করেন। তাঁদের ওই দাবির প্রতি সমর্থন জানান অর্থমন্ত্রী। পরে কম্পানি আইনে শেয়ার পুনরায় ক্রয়ের ধারা যোগ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়। তার পর থেকেই কম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কম্পানি আইন পর্যালোচনা ও সংশোধন করতে ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে গত মে পর্যন্ত চার দফা বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রথম দুই বৈঠকে কম্পানি আইন-১৯৯৪ পর্যালোচনা করা হয়েছে। আর পরের বৈঠকগুলোয় আইনটি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রার, জয়েন্ট স্টক পরিদপ্তর, আইসিএসবি, আইসিএবি, আইসিএমএবি, এসইসি ও চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জের মতামত পেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান আইনের ৪০৪টি ধারার মধ্যে দুই শতাধিক ধারা সংশোধন করার কথা বলেছে। তবে এখনো এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, ডিএসই ও সিপিডির প্রস্তাব চেয়েও পায়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেন্ট ফান্ড (বিআইসিএফ) নতুন কম্পানি আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্য সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয় বিশ্বব্যাংকের ওই প্রস্তাব গ্রহণ করতে রাজি হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
এদিকে মাল্টিলেবেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ডাইরেক্ট সেল আইন ২০১১-এর খসড়া এখন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মতামত নেওয়া হবে। এ ছাড়া আগামী ১ আগস্ট ট্যারিফ কমিশন এমএলএম ব্যবসাসংক্রান্ত একটি সেমিনারের আয়োজন করবে। ওই সেমিনারের সুপারিশ আমলে নেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া এমএলএম ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও একটি সভা করতে পারে মন্ত্রণালয়। তার পরই খসড়াটি চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া কো-অপারেটিভ সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠন পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের খসড়া চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে এ খসড়ার ওপর জনমতও নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শিগগিরই তা মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। আর বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০১১-এর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই আইনের খসড়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা
http://www.kalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Download&pub_no=581&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=4
শেয়ারবাজারে ধসের পর কম্পানি আইনে শেয়ার পুনরায় ক্রয়ের ধারা যোগ করার কথা ছিল। সে জন্য চার দফায় বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল শেয়ার পুনরায় ক্রয়ের ধারা সংযুক্ত নয়; পুরো কম্পানি আইনকেই যুগোপযোগী করার প্রস্তাব দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বিদ্যমান কম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ৪০৪টি ধারার মধ্যে দুই শতাধিক ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে গতকাল। এ আইনসহ ডাইরেক্ট সেল আইন-২০১১, বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০১১ ও সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট-২০১১ জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে পাস করার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়েছে। কম্পানি আইন সংশোধনের জন্য বাণিজ্যসচিবের নেতৃত্বে ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তা ছাড়াও এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই ও মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রতিনিধিও রাখা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে কম্পানি আইনের সংশোধনী চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বিদ্যমান কম্পানি আইন-১৯৯৪ মূলত ব্রিটিশ আমলে প্রণীত আইনেরই সংশোধিত রূপ। ভারতের কম্পানি আইনের উৎসও একই। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অবশ্য কয়েক দফায় মূল আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। ভারতে কম্পানি আইনে শেয়ার পুনরায় ক্রয়সহ যুগোপযোগী বিভিন্ন ধারা সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বিভিন্ন সময় কম্পানি আইন-১৯৯৪ কে যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে শেয়ারবাজারে ধস নামার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে শেয়ার পুনরায় ক্রয়ের বিধান করার অনুরোধ করেন। তাঁদের ওই দাবির প্রতি সমর্থন জানান অর্থমন্ত্রী। পরে কম্পানি আইনে শেয়ার পুনরায় ক্রয়ের ধারা যোগ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়। তার পর থেকেই কম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কম্পানি আইন পর্যালোচনা ও সংশোধন করতে ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে গত মে পর্যন্ত চার দফা বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রথম দুই বৈঠকে কম্পানি আইন-১৯৯৪ পর্যালোচনা করা হয়েছে। আর পরের বৈঠকগুলোয় আইনটি সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রার, জয়েন্ট স্টক পরিদপ্তর, আইসিএসবি, আইসিএবি, আইসিএমএবি, এসইসি ও চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জের মতামত পেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান আইনের ৪০৪টি ধারার মধ্যে দুই শতাধিক ধারা সংশোধন করার কথা বলেছে। তবে এখনো এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, ডিএসই ও সিপিডির প্রস্তাব চেয়েও পায়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেন্ট ফান্ড (বিআইসিএফ) নতুন কম্পানি আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্য সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয় বিশ্বব্যাংকের ওই প্রস্তাব গ্রহণ করতে রাজি হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
এদিকে মাল্টিলেবেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ডাইরেক্ট সেল আইন ২০১১-এর খসড়া এখন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মতামত নেওয়া হবে। এ ছাড়া আগামী ১ আগস্ট ট্যারিফ কমিশন এমএলএম ব্যবসাসংক্রান্ত একটি সেমিনারের আয়োজন করবে। ওই সেমিনারের সুপারিশ আমলে নেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া এমএলএম ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও একটি সভা করতে পারে মন্ত্রণালয়। তার পরই খসড়াটি চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া কো-অপারেটিভ সোসাইটিসহ বিভিন্ন সংগঠন পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের খসড়া চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে এ খসড়ার ওপর জনমতও নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শিগগিরই তা মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। আর বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০১১-এর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই আইনের খসড়াটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা
http://www.kalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Download&pub_no=581&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=4
Comments
Post a Comment