ছয় মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ৯% কমেছে

স্থানীয় আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার গত সপ্তাহে আরও বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার রেকর্ড করেছে। এই সপ্তাহে সরাসরি কেনাবেচায় বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রতি মার্কিন ডলারের দর সাত পয়সা বেড়েছে। এ নিয়ে চলতি ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সোয়া ছয় মাসে প্রতি ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের টাকার বিনিময় হার প্রায় তিন টাকা ৪২ পয়সা বা নয় শতাংশের মতো কমেছে।
সপ্তাহের শুরুতে প্রতি ডলার ৭৪ টাকা ১৯ পয়সা থেকে ৭৪ টাকা ২৪ পয়সায় কেনাবেচা হয়। আর সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার ৭৪ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে ৭৪ টাকা ৩৭ পয়সায় কেনাবেচা হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে আগের সপ্তাহের শেষ তিন দিনের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহের প্রথম দিকে ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরোর দর বাড়ে। এর মধ্যে সোমবারে প্রতি ইউরোর দর ১ দশমিক ৪৫৮০ ডলারে ওঠে, যা ছিল গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে বিনিয়োগকারীরা ‘সেফ হ্যাভেন’ বা ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’-এর দিকে ঝুঁকে পড়ায় মঙ্গলবারে ইউরোর দর পড়ে যায়।
পর্তুগালের ক্রেডিট রেটিংকে মুডিস জাঙ্ক পর্যায়ে নামিয়ে দেওয়ায় এবং চীনের সুদের হার বাড়ানোর কারণে বৃহস্পতিবার ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর পড়ে যায়। এ দিন প্রতি ইউরোর দর কমে ১ দশমিক ৪৩১১ ডলারে নেমে আসে।
সপ্তাহের শেষদিকে বিনিয়োগকারীরা বেশি সুদের মুদ্রায়, কমোডিটি বা পণ্যে ও শেয়ারে বিনিয়োগ ছেড়ে দেন। বিশেষত বৃহস্পতিবারে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) তাদের সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত করে। কিন্তু এই সুবিধা নিতে পারেনি ইউরো।
গ্রিসের অর্থনীতির তহবিল জোগানে ইউরোপীয় দেশগুলোর মন্ত্রীরা একমত হলেও ইউরোপের পারচেজিং ম্যানেজার্স সূচক কমেছে। যে কারণে গ্রিসের অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা একেবারে কেটে যায়নি।
যা-ই হোক, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে সপ্তাহের শেষ লেনদেন দিবস শুক্রবারে প্রতি ইউরো ১ দশমিক ৪২৭৩ ডলারে, প্রতি পাউন্ড স্টার্লিং ১ দশমিক ৬১ ডলারে এবং প্রতি ডলার ৮০ দশমিক ৬৬ ইয়েনের কাছাকাছি দরে কেনাবেচা হয়। সূত্র: সিটিব্যাংক এনএ, বাংলাদেশ।


http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-07-10/news/169097

Comments