চলতি জুলাই থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত দুই হাজার ৬৩৬ কোটি ইউএস ডলার মূল্যের পণ্য বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। দেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। রপ্তানিকারকরা বলছেন, সহযোগিতা পেলে চলতি অর্থবছরে এর চেয়েও বেশি রপ্তানি করা সম্ভব।
গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে রপ্তানিকারক সমিতিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ রপ্তানির ক্ষেত্রে ভালো করছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে গত অর্থবছর রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪১.৪২ শতাংশ।
গত ২০১০-১১ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৮৫০ কোটি ডলার। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ২৯২ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৪২ কোটি ডলার বেশি। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যসচিব মো. গোলাম হোসেন বলেন, 'তৈরি পোশাক শিল্পে রপ্তানি আয় বেশি হলেও এর কাঁচামাল আমদানির খরচও বেশি। তাই এটি প্রকৃত প্রবৃদ্ধি নয়। তবে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি আয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। আগামী বছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ও টেঙ্টাইল খাতের রপ্তানি আয়ও শত কোটি ডলার ছাড়াবে বলে আশা করছি।'
তিনি বলেন, নতুন খাত হিসাবে জাহাজ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে যে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব ।
চলতি অর্থবছর হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে হিমায়িত খাদ্য ব্যবসায়ীরা বলেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন করা সম্ভব হবে। গত অর্থবছর নিটওয়্যার, ওভেন গার্মেন্টস, হোম টেঙ্টাইল, ফুটওয়্যার, কাঁচাপাট, পাটজাত পণ্য, কটন ফেব্রিঙ্, রাবার, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ ও প্লাস্টিক পণ্য খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও আসবাবপত্র রপ্তানি কমেছে বলে বৈঠকে বলা হয়।
গত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের সাফল্য সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মন্দা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অবকাঠামো সমস্যার মধ্যেও রপ্তানি ক্ষেত্রে যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, তা অহংকার করার মতো। এজন্য রপ্তানিমুখী সব শিল্প-কারখানা ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, শ্রমিক ও কর্মকর্তারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
শ্রমিকদের কল্যাণের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চলমান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধ্বংস করা যাবে না। হরতাল কিংবা শ্রমিক অসন্তোষের ব্যাপারেও সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ভালো পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। বাড়তি বিদ্যুৎ শিল্প-কারখানায় দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা বৃদ্ধি, ঢাকা চট্টগ্রাম ডাবল লাইন রেল যোগাযোগ গড়ে তোলা, সমুদ্রবন্দরে নাব্যতা বাড়াতে ডেজিং করা ও বন্দরে অটোমেশন চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে হিমায়িত খাদ্য, চামড়া, পাট, কম্পিউটার সার্ভিস, তৈরি পোশাক, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছরে বিদেশে ৪৪টি মিশনের জন্য দুই হাজার ৫৭৫ কোটি ডলার এবং মিশন বহির্ভূত দেশের জন্য ৬৬ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৪৪টি মিশনের মধ্যে ১৭টি গত অর্থবছর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে টোকিও, কায়রো, তেহরান, বেইজিং, ইসলামাবাদ, শিউল, জাকার্তা, কুয়ালালামপুর, ম্যানিলা, ইয়াংগুন, দোহা, মানামা, আম্মান, ত্রিপোলি, মাসকাট, থিম্পু ও ব্রুনাই অন্যতম। বাকি ২৫টি মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মিশনগুলোর ব্যর্থতার ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের ব্যর্থতার কারণ বের করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সহায়তা করতে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Car&pub_no=580&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=6
গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে রপ্তানিকারক সমিতিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ রপ্তানির ক্ষেত্রে ভালো করছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে গত অর্থবছর রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪১.৪২ শতাংশ।
গত ২০১০-১১ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৮৫০ কোটি ডলার। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ২৯২ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৪২ কোটি ডলার বেশি। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যসচিব মো. গোলাম হোসেন বলেন, 'তৈরি পোশাক শিল্পে রপ্তানি আয় বেশি হলেও এর কাঁচামাল আমদানির খরচও বেশি। তাই এটি প্রকৃত প্রবৃদ্ধি নয়। তবে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি আয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। আগামী বছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ও টেঙ্টাইল খাতের রপ্তানি আয়ও শত কোটি ডলার ছাড়াবে বলে আশা করছি।'
তিনি বলেন, নতুন খাত হিসাবে জাহাজ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে যে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব ।
চলতি অর্থবছর হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে হিমায়িত খাদ্য ব্যবসায়ীরা বলেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন করা সম্ভব হবে। গত অর্থবছর নিটওয়্যার, ওভেন গার্মেন্টস, হোম টেঙ্টাইল, ফুটওয়্যার, কাঁচাপাট, পাটজাত পণ্য, কটন ফেব্রিঙ্, রাবার, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ ও প্লাস্টিক পণ্য খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও আসবাবপত্র রপ্তানি কমেছে বলে বৈঠকে বলা হয়।
গত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের সাফল্য সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মন্দা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অবকাঠামো সমস্যার মধ্যেও রপ্তানি ক্ষেত্রে যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, তা অহংকার করার মতো। এজন্য রপ্তানিমুখী সব শিল্প-কারখানা ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, শ্রমিক ও কর্মকর্তারা কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
শ্রমিকদের কল্যাণের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চলমান অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধ্বংস করা যাবে না। হরতাল কিংবা শ্রমিক অসন্তোষের ব্যাপারেও সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ভালো পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। বাড়তি বিদ্যুৎ শিল্প-কারখানায় দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা বৃদ্ধি, ঢাকা চট্টগ্রাম ডাবল লাইন রেল যোগাযোগ গড়ে তোলা, সমুদ্রবন্দরে নাব্যতা বাড়াতে ডেজিং করা ও বন্দরে অটোমেশন চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে হিমায়িত খাদ্য, চামড়া, পাট, কম্পিউটার সার্ভিস, তৈরি পোশাক, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছরে বিদেশে ৪৪টি মিশনের জন্য দুই হাজার ৫৭৫ কোটি ডলার এবং মিশন বহির্ভূত দেশের জন্য ৬৬ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৪৪টি মিশনের মধ্যে ১৭টি গত অর্থবছর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে টোকিও, কায়রো, তেহরান, বেইজিং, ইসলামাবাদ, শিউল, জাকার্তা, কুয়ালালামপুর, ম্যানিলা, ইয়াংগুন, দোহা, মানামা, আম্মান, ত্রিপোলি, মাসকাট, থিম্পু ও ব্রুনাই অন্যতম। বাকি ২৫টি মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মিশনগুলোর ব্যর্থতার ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের ব্যর্থতার কারণ বের করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সহায়তা করতে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Car&pub_no=580&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=6
Comments
Post a Comment