দাম বাড়তে পারে

সিগারেট-বিড়ি, গুল-জর্দা: সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানোসহ এর ওপর প্রযোজ্য সম্পূরক শুল্কহার বাড়িয়ে যথাক্রমে ৩৬, ৫৫, ৫৮ ও ৬০ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে জর্দার ওপর সম্পূরক শুল্কহার বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গুলের ওপরও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এতে সিগারেট, বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম বাড়বে।
পুরোনো গাড়ি: দেশে রিকন্ডিশন্ড বা পুরোনো গাড়ির আমদানি নিরুৎসাহিত করতে বাজেটে চার বছরের পরিবর্তে তিন বছরের পুরোনো গাড়ির আমদানি-সুবিধা রাখা হয়েছে। এতে পুরোনো গাড়ি আমদানি কমে দাম বেড়ে যেতে পারে।
বৈদ্যুতিক পাখা: স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বাজেটে আমদানি পর্যায়ে বৈদ্যুতিক ফ্যান বা পাখার ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ এবং বৈদ্যুতিক মাল্টি কর্ড, সুইচ ও সকেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। যে কারণে এগুলোর দাম বাড়তে পারে।
বিলাসবহুল গাড়ি: ন্যূনতম চার দরজাবিশিষ্ট বিলাসবহুল ডাবল কেবিন পিকআপ বা মোটরগাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি (সিসি) ১০০০ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ, ১০০১ থেকে ১৫০০ সিসির গাড়িতে ৪৫ শতাংশ, ১৫০১-২০০০ সিসির গাড়িতে ১০০ শতাংশ, ২০০১ থেকে ২৭৫০ সিসির গাড়িতে ২৫০ শতাংশ, ২৭৫১ থেকে ৪০০০ সিসির গাড়িতে ৩৫০ শতাংশ এবং ৪০০১ থেকে তদূর্ধ্ব সিসির গাড়িতে ৫০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করায় এগুলোর দাম বাড়বে।
বাণিজ্যিক ভবন: ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর সংগ্রহের হার দশ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে বাণিজ্যিক ভবনের মূল্য ও ভাড়া দুটোই আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদেশি মোটরসাইকেল: সম্পূর্ণ তৈরি ফোর স্ট্রোক মোটরসাইকেল আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্কহার বিদ্যমান ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশে প্রস্তাব করায় এর দাম বাড়বে।
এনার্জি ড্রিংক: বাজেটে এনার্জি ড্রিংকের ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করায় এই পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
বিদেশে মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তক: বিদেশ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তকের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়ায় এর দাম বাড়বে।
বিদেশি আসবাব: দেশের বিকাশমান আসবাবশিল্প খাতে সহায়তা করতে বিদেশি ফার্নিচার বা আসবাবের ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে নির্ধারণের প্রস্তাব করায় এর দাম বাড়বে।
ফ্লোট গ্লাস ও গ্লাস টিউব: বাজেটে ফ্লোট গ্লাসের ওপর ১০ শতাংশ এবং গ্লাস টিউবের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকায় এই দুই ধরনের গ্লাসের দাম বাড়তে পারে।
চকলেট: আমদানি পর্যায়ে সুগার কনফেকশনারি ও চকলেটের ওপর ট্যারিফ ভ্যালু বাড়ানোর কারণে পণ্য দুটির দাম বাড়তে পারে।
টিস্যু পেপার: আমদানি করা টয়লেট পেপার ও ফেসিয়াল টিস্যুর ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এই দুই ধরনের টিস্যু পেপারের দাম বাড়বে।
আরও যেসব পণ্যের দাম বাড়বে: বাজেট প্রস্তাবে শুল্ক বাড়ানোর কারণে আরও যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাস ও ট্রাকের টায়ার, তিন চাকার গাড়ির ব্যাটারি, পরিশোধিত তামা, অপটিক্যাল ফাইবার কেব্ল, পানির ট্যাপ, শব্দপ্রেরণ ও গ্রহণযন্ত্র, রড তৈরির কাঁচামাল ফেরো ম্যাঙ্গানিজ, ফেরো সিলিকন, ফেরো সিলিকো ম্যাঙ্গানিজ ও টিন ক্যান।
বাজেটে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো বা আরোপের প্রস্তাব থাকায় আমদানি করা সব ধরনের গজ-কাপড় ও প্রস্তুতকৃত কাপড়, মাছ, প্রসাধনী দ্রব্য, সুগন্ধি, জুতার পালিশ, স্যানিটারি টাওয়াল ও ন্যাপকিন, রান্নাঘরে ব্যবহূত কাচের সামগ্রী, গৃহে ব্যবহূত ফ্যান ও ফ্যানের যন্ত্রাংশ ইত্যাদির দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া আমদানি পর্যায়ে সুগার কনফেকশনারি, চকলেটসহ যেসব পণ্যের ট্যারিফ ভ্যালু বাড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে আছে সিমকার্ড। 


http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-06-10/news/161242

Comments