প্রাইমারি মার্কেটের প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ারে আটকে আছে সেকেন্ডারি মার্কেটের প্রায় এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ফলে শেয়ারবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ডিসেম্বরের দরপতনের আগে সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে টাকা তুলে নিয়ে বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাতটি কম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনতে এই পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেন। অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে এ বিষয়টি তারল্য সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ও প্লেসমেন্ট শেয়ার নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় ওই সাতটি কম্পানির সেকেন্ডারি মার্কেটে আসার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করে অথবা প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহীত অর্থ ফেরত দিয়ে বিদ্যমান তারল্য সংকট দূর করা সম্ভব বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে এসইসির সদস্য আরিফ খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেন সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে এক পরামর্শমূলক বৈঠক করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, পুঁজিবাজারে বিদ্যমান তারল্য সংকটের অনেক কারণের মধ্যে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ারে আটকে থাকা বিপুল টাকা অন্যতম। আইপিওর জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করে অথবা প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহীত অর্থ ফেরত দিয়ে বিদ্যমান তারল্য সংকট দূর করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
এদিকে অতিমূল্যায়নের বাজারে তালিকাভুক্তির আশ্বাসে সাত কম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনে বিপাকে পড়েছেন বড় বিনিয়োগকারীরা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়ার আগেই সাতটি কম্পানি প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই এসইসিতে আবেদন জমা দিয়ে প্রি আইপিও শেয়ার বা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি শুরু করে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে এই পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করা হয়। কোনো কোনো কম্পানির শেয়ার কয়েক দফা হাত বদল হয়ে নির্ধারিত মূল্যের অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। জানা গেছে, এর মধ্যে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস মোট তিন কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৪৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ১৬০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অরিয়ন ফার্মা প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সাত কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৫২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৬৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ৭৫ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ছয় কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে জিএমজি এয়ারলাইনস। কম্পানিটি শেয়ারপ্রতি প্রিমিয়াম নিয়েছে ৪০ টাকা। ১০ টাকার শেয়ারের বিপরীতে ২৪০ টাকা প্রিমিয়ামসহ সর্বমোট ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ। এই কম্পানিটি প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৫০ লাখ শেয়ার বিক্রি করেছে। এনার্জি প্রিমা নামে একটি কম্পানি এক কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার বিক্রি করে ১৫৫ কোটি ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। কম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে প্রিমিয়াম নিয়েছে ৮৯ দশমিক ৪২ টাকা। কেয়া কটন মিলস ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে সমপরিমাণ প্রিমিয়ামসহ ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
এ ছাড়া এসটিএস হোল্ডিংস (অ্যাপোলো হসপিটাল) আট কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার বিক্রি করে ১৩০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। এই কম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে শেয়ারপ্রতি পাঁচ টাকা প্রিমিয়াম নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্লেসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির পর প্রতিটি কম্পানিই পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর মধ্যে এসইসির অনুমোদন পাওয়ার পরও বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে আছে ইউনিক হোটেলের আইপিও প্রক্রিয়া। রোড শোর মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করলেও একই কারণে অগ্রসর হতে পারেনি জিএমজি এয়ারলাইনস, অরিয়ন ফার্মা এবং কেয়া কটন মিলস। বুকবিল্ডিং জটিলতায় ঝুলে গেছে এনার্জি প্রিমার আইপিও প্রক্রিয়া। অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নির্ধারণ করায় এসটিএস হোল্ডিংসের আবেদন বাতিল করেছে এসইসি। আর প্রায় ১০ মাস আগে আবেদন করলেও এসইসির অনুমোদন পায়নি লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ। ব্রোকারেজ হাউসের তালিকাভুক্তির বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ মহলের আপত্তি থাকায় এই প্রতিষ্ঠানের আইপিও পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=University&pub_no=558&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=10
সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করে অথবা প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহীত অর্থ ফেরত দিয়ে বিদ্যমান তারল্য সংকট দূর করা সম্ভব বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে এসইসির সদস্য আরিফ খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেন সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে এক পরামর্শমূলক বৈঠক করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, পুঁজিবাজারে বিদ্যমান তারল্য সংকটের অনেক কারণের মধ্যে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ারে আটকে থাকা বিপুল টাকা অন্যতম। আইপিওর জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করে অথবা প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহীত অর্থ ফেরত দিয়ে বিদ্যমান তারল্য সংকট দূর করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
এদিকে অতিমূল্যায়নের বাজারে তালিকাভুক্তির আশ্বাসে সাত কম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনে বিপাকে পড়েছেন বড় বিনিয়োগকারীরা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়ার আগেই সাতটি কম্পানি প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই এসইসিতে আবেদন জমা দিয়ে প্রি আইপিও শেয়ার বা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি শুরু করে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে এই পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করা হয়। কোনো কোনো কম্পানির শেয়ার কয়েক দফা হাত বদল হয়ে নির্ধারিত মূল্যের অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। জানা গেছে, এর মধ্যে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস মোট তিন কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৪৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ১৬০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অরিয়ন ফার্মা প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সাত কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৫২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৬৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ৭৫ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ছয় কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে জিএমজি এয়ারলাইনস। কম্পানিটি শেয়ারপ্রতি প্রিমিয়াম নিয়েছে ৪০ টাকা। ১০ টাকার শেয়ারের বিপরীতে ২৪০ টাকা প্রিমিয়ামসহ সর্বমোট ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ। এই কম্পানিটি প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৫০ লাখ শেয়ার বিক্রি করেছে। এনার্জি প্রিমা নামে একটি কম্পানি এক কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার বিক্রি করে ১৫৫ কোটি ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। কম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে প্রিমিয়াম নিয়েছে ৮৯ দশমিক ৪২ টাকা। কেয়া কটন মিলস ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে সমপরিমাণ প্রিমিয়ামসহ ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
এ ছাড়া এসটিএস হোল্ডিংস (অ্যাপোলো হসপিটাল) আট কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার বিক্রি করে ১৩০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। এই কম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে শেয়ারপ্রতি পাঁচ টাকা প্রিমিয়াম নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্লেসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির পর প্রতিটি কম্পানিই পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর মধ্যে এসইসির অনুমোদন পাওয়ার পরও বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে আছে ইউনিক হোটেলের আইপিও প্রক্রিয়া। রোড শোর মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করলেও একই কারণে অগ্রসর হতে পারেনি জিএমজি এয়ারলাইনস, অরিয়ন ফার্মা এবং কেয়া কটন মিলস। বুকবিল্ডিং জটিলতায় ঝুলে গেছে এনার্জি প্রিমার আইপিও প্রক্রিয়া। অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নির্ধারণ করায় এসটিএস হোল্ডিংসের আবেদন বাতিল করেছে এসইসি। আর প্রায় ১০ মাস আগে আবেদন করলেও এসইসির অনুমোদন পায়নি লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ। ব্রোকারেজ হাউসের তালিকাভুক্তির বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ মহলের আপত্তি থাকায় এই প্রতিষ্ঠানের আইপিও পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=University&pub_no=558&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=10
Comments
Post a Comment