এ মাসেই আরও ৯৬ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ যোগ হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের মতে দাম না কমালে গ্রাহকের কোন লাভ হবে না

এ মাসেই দেশে আরও ৯৬ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ যোগ হচ্ছে। এর আগে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ৪৪ দশমিক ৬ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ দেশে আসত। বাড়তি ৯৬ গিগা যোগ হলে দেশে মোট ব্যান্ডউইথ হবে ১৪০ দশমিক ৬ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ। এই পরিমাণ ব্যান্ডউইথ সঠিক পথে কাজে লাগাতে পারলে ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন অনেকাংশে সহজ হবে। বরং আরও কিছু ব্যান্ডউইথ অন্য দেশের কাছে বিক্রি করা যাবে। এতেও দেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। তবে ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যান্ডউইথ যত বেশিই থাকুক না কেন তাতে কোন লাভ হবে না। কারণ এত বেশি টাকা দিয়ে গ্রাহকদের ব্যান্ডউইথ কিনতে হচ্ছে-যে ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জন এখানেই বাধা পাবে। ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করতে ব্যান্ডউইথের দাম অবশ্যই কমাতে হবে।
বাড়তি ৯৬ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ পেতে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডকে (বিএসসিসিএল) ৫০ কোটি টাকা কনসোর্টিয়ামকে পরিশোধ করতে হয়েছে। বাংলাদেশ ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ের সঙ্গে যে ক্যাবলের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে, সেই ক্যাবল এখন 'আপগ্রেডেশনের' কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে ক্যাবল আপগ্রেডেশনের কাজ পুরো শেষ হবে। আপগ্রেডেশনের কাজ শেষ হওয়ার পরই বাড়তি ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ৰেত্রে ইন্টারনেটের বাড়তি ব্যান্ডউইথ বড় ভূমিকা রাখবে।
সূত্র জানিয়েছে, ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হতে পারে। এমন একটি জরিপ কাজ ২০০৯ সালে বিএসসিসিএল করেছিল। পরে দৰিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগর তলদেশ দিয়ে বেশ কয়েকটি ক্যাবল আপগ্রেড করার কাজ শুরু করে কনসোর্টিয়াম। বিএসসিসিএল এ সুযোগকে কাজে লাগাতে কনসোর্টিয়ামকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করে। বিএসসিসিএল তখন হিসাব করেছিল ২০২১ পর্যনত্ম ৩৭ দশমিক ০৭৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হতে পারে। এরপরও উদ্বৃত্ত থাকবে ৭ দশমিক ৫২৫ জিবিপিএস। সাবমেরিন ক্যাবল তৃতীয়বারের মতো আপগ্রেডে হচ্ছে । এ আপগ্রেডেশনে কোম্পানির ব্যবহারযোগ্য ব্যান্ডউইথ দাঁড়াবে ৯৬ জিবিপিএস। বহু মূল্যবান ব্যান্ডউইথ ফেলে না রেখে বাড়তি ব্যান্ডউইথ বিক্রি করাও যেতে পারে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি ব্যান্ডউইথ পাওয়া গেলেও বিকল্প সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করতে হবে। বিকল্প ক্যাবল না থাকলে কোন কারণে ক্যাবল কাটা পড়লে মেরামত করার আগ পর্যনত্ম বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজি উদ্দীন আহমেদ রাজু সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, বর্তমান সরকার ভিশন ২০২১ বাসত্মবায়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। বিকল্প সাবমেরিন ক্যাবল, মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের আওতায় নিয়ে আসা, ই-স্বাস্থ্যসেবা চালু, স্কুল-কলেজে তথ্যপ্রযুক্তি শিৰার জন্য কর্মসূচী বাসত্মবায়নের কাজ শুরম্ন হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প।
বিএসসিসিএল'র এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশে টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রবেশদ্বার হিসেবে বিএসসিসিএল প্রতিনিধিত্ব করছে। এ কোম্পানির মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবহারযোগ্য ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি ৪৪ দশমিক ৬ গিগাবাইট পার সেকেন্ড (জিবিপিএস)। এখান থেকে মাত্র ১৫ গিগাবাইট দেশে ব্যবহার হচ্ছে। বাকি ২৯ দশমিক ৬ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ অব্যবহৃত রয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল আপগ্রেটেড হলে বাড়তি আরও ৯৬ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে। বাড়তি ব্যান্ডউইথ যোগ হলে দেশে মোট ব্যান্ডউইথের পরিমাণ হবে ১৪০ দশমিক ৬ গিগাবাইট। এ মাসের মধ্যে বাড়তি ব্যান্ডউইথ দেশে আসবে। ২০২১ সাল পর্যনত্ম যে পরিমাণ ব্যন্ডউইথ প্রয়োজন হবে তার একটি হিসাব করে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি বাড়তি ব্যান্ডউইথ বিদেশে বিক্রি করার ওপর গুরম্নত্ব দিয়েছেন।
জানা গেছে, ইনফরমেশন সুপারহাইওয়ে বঙ্গোপসাগর তলদেশের সাবমেরিন ক্যাবলের কঙ্বাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে ঢাকার এঙ্চেঞ্জের সংযোগ ভূ-গর্ভে একটি মাত্র অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। পিজিসিবি'র (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ) বিদু্যত সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ব্যবহার করে কঙ্বাজার-চট্টগ্রাম-ঢাকা ভূ-গর্ভের বিকল্প হিসেবে ওভারহেড অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করেছে বিটিসিএল। এ ক্যাবলটি চালু হলে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগলাইনে ত্রম্নটিজনিত সমস্যায় বিকল্প পথ নিশ্চিত হতে পারত। এটি এখন আর চালু নেই।
সাবমেরিন ক্যাবল সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশ দিয়ে সাড়ে ১২শ' কিলোমিটার দূরে কঙ্বাজারের ঝিলংজায় স্থাপিত ল্যান্ডিং স্টেশনে যুক্ত হয়েছে। ২০০৬ সালের ২১ মে সুপার হাইওয়েতে যুক্ত হয় বাংলাদেশ । ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ৪৩৭ কিলোমিটার দূরে ঢাকায় এঙ্চেঞ্জ হওয়ায় ভূ-গর্ভের ফাইবারের মাধ্যমে যুক্ত হয় ঢাকার মগবাজারের ল্যান্ডিং স্টেশনে।

http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=27&dd=2011-06-02&ni=60478

Comments