রেমিটেন্স সাড়ে এগারো শ' কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে

স্থিতিশীলতা এসেছে রেমিটেন্স প্রবাহে। রেমিটেন্স প্রবাহের এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে (জুন মাসে) প্রায় সাড়ে ১১ বিলিয়ন বা ১১শ' ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স দেশে আনতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জোরালো উদ্যোগ রয়েছে। তবে এ উদ্যোগকে আরও বেগবান করতে অর্থমন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিনিয়োগ বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তারা একাধিক কৌশলসহ বিভিন্ন সুপারিশ নিয়ে কাজ করছেন। অর্থমন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে দফায় দফায় সুপারিশ তৈরি সরকারের সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিভাগের কাছে বাসত্মবায়নের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এসব সুপারিশ ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ (রেমিটেন্স) এসেছে ৯৯ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার বা ৯৯৩.২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা এর আগের বছর ওই একই সময়ে রেমিটেন্স এসেছে ৯০৩.০৫ মিলিয়ন বা ৯০ কোটি ৩ লাখ মার্কিন ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরের মে মাসের তুলনায় বর্তমান অর্থবছরের ওই একই সময়ে প্রায় ৯ কোটি ডলার বেশি রেমিটেন্স এসেছে। একই সঙ্গে বর্তমান অর্থবছরের মার্চ থেকে মে পর্যনত্ম রেমিটেন্স আসার গতি মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। যা গত অর্থবছরের ওই একই সময়ের তুলনায় অনেকটা বেশি লৰ্য করা গেছে। রেমিটেন্স প্রবাহের গতি স্বাভাবিক থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশিস্নষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা সনত্মোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আহসান ইলস্নাহ জনকণ্ঠকে বলেন, বিভিন্ন বাধা বিপত্তির পরেও বর্তমানে রেমিটেন্স বৃদ্ধির যে প্রবণতা রয়েছে সেটি অব্যাহত থাকলে এ অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তিনি বলেন, আমাদের টার্গেট অর্থবছর শেষে সাড়ে ১১ বিলিয়ন রেমিটেন্স অর্জন। এ লৰ্যমাত্রা নিয়ে আমরা কাজ করছি। গত মে মাসের প্রাথমিকভাবে হিসেবে ৯৯ কোটি ৩২ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে। কিন্তু চূড়ানত্ম হিসেব করলে এটি প্রায় এক বিলিয়ন বা ১শ' কোটি ডলারে পেঁৗছাবে। তিনি আরও বলেন, দেশে বেনিফিসিয়ারিদের কাছে রেমিটেন্স যাতে দ্রম্নত পৌঁছানো যায় সে লৰ্যে কাজ করা হচ্ছে। ব্যাংকের পাশাপাশি এনজিও এবং পোস্ট অফিসের সেবা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিদেশে অনেক এঙ্চেঞ্জ হাউস খুলতে ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করা হচ্ছে। বিদেশে লোক পাঠাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। মোটকথা যাতে দেশে প্রচুর পরিমাণে রেমিটেন্স আসে সে লৰ্য নিয়েই কাজ করছি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রেমিটেন্স বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে ব্যাংকগুলোর বেশি করে এঙ্চেঞ্জ হাউস খোলার অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পৰ থেকে জনশক্তি রফতানিতে নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে। যাতে করে বিদেশে বেশি করে জনশক্তি রফতানি করা সম্ভব হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই '১০-মে '১১) মোট রেমিটেন্স এসেছে প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি ৬২ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে প্রায় ৫১ কোটি মার্কিন ডলার বেশি এসেছে। তবে রেমিটেন্স বৃদ্ধির এ হার আগের অর্থবছরগুলোর তুলনায় অনেক কম বলে জানা গেছে।
মে মাসে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে বেসরকারী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। সরকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে রেমেটেন্স এসেছে ২৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বেসরকারী ৩০ ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৬৭ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৪১ লাখ ডলার, আর বিদেশী ৯ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। গত মাসের সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। এ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ২৪ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ডলার রেমিটেন্স এসেছে।
গত মার্চ থেকে জুন পর্যনত্ম রেমিটেন্স প্রবাসে মোটামুটি স্থিতিশীলতা এসেছে। মার্চ মাসে রেমিটেন্স এসেছে ১১০ কোটি ২৯ লাখ, এপ্রিল মাসে এসেছে ১০০ কোটি বা এক বিলিয়ন এবং গত মে মাসে এসেছে ৯৯ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলার। রেমিটেন্স প্রবাহে ধারা অব্যাহত থাকলে গত অর্থবছরের চেয়ে এ অর্থবছরে অনেক বেশি রেমিটেন্স আসবে বলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে।
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=34&dd=2011-06-07&ni=61034

Comments