সরকারের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ কমে গেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট_বিওপি) চাপ বেড়ে যেতে পারে। আর্থিক খাতে ঘাটতি চলতে থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও দ্রুত কমে যাবে। সেই সঙ্গে কমবে ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় মূল্য। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি তেলের অভ্যন্তরীণ মূল্যবৃদ্ধিসহ আট পদক্ষেপ নিতে সরকারকে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সুপারিশের মধ্যে আরো রক্ষণশীল মুদ্রানীতি অনুসরণ ও টাকার মান কমতে দেওয়া।
সরকারের কাছে দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি হিসাব এবং মূলধনী হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার পরও মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ কমছে। তাই আর্থিক হিসাবে ঘাটতি থাকায় চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে এবং নীতিগত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকবে। মূলত এ চাপের প্রভাবে ইতিমধ্যেই টাকার বিনিময় হার বেশ কিছুটা
কমেছে। ২০১০ সালের ৩০ জুন থেকে ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত টাকার বিনিময় হার ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো জানিয়েছে, সামনের মাসগুলোতে যদি চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দেয় এবং মূলধনী হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ বৃদ্ধি না পায়, তবে আর্থিক হিসাবের বর্তমান পরিস্থিতিতে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে বিপুল ঘাটতি দেখা দেবে। এটি টাকা-ডলারের বিনিময় হারে আরো অবমূল্যায়ন চাপ সৃষ্টি করবে।
বিওপিতে চাপ সৃষ্টি হবে তিন কারণে : বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টির উৎস হবে তিনটি। এগুলো হচ্ছে_চলতি হিসাবের ভারসাম্য (সিএবি), আর্থিক হিসাবে (ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি এবং বেসরকারি খাতের ঋণের জোরালো প্রবৃদ্ধি।
চলতি হিসাবের খাতগুলোর পরিসংখ্যান হচ্ছে_গত জুলাই থেকে মার্চ সময়ের মধ্যে রপ্তানি ও আমদানির প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ও ২৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থবছর শেষে অর্থাৎ চলতি জুন মাস শেষে তা যথাক্রমে ২২ দশমিক ৭ এবং ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে। এ ছাড়া জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেবা, আয়, চলতি হস্তান্তর ও চলতি হিসাবে ঘাটতি যথাক্রমে ১ দশমিক ৬, দশমিক ৯, ৭ দশমিক ৯ এবং দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুন শেষে এ হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৪, ১ দশমিক ৪, ১১ দশমিক ৯ এবং ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে বলে মনে করা যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, 'প্রাথমিকভাবে আর্থিক হিসাবের ঘাটতি সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে চাপের উৎস হিসেবে দেখা দিলেও সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সামনের মাসগুলোতে চলতি হিসাবের লেনদেনও সম্ভাব্য চাপের উৎস হিসেবে দেখা দেবে। কোনো পলিসিগত হস্তক্ষেপ না হলে বর্তমান ধারা অনুযায়ী বছর শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়াবে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।'
আর্থিক হিসাবের খাতগুলোর পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে সম্ভাব্য চাপের দ্বিতীয় উৎস আর্থিক হিসাবে ঘাটতি।'
বেসরকারি খাতের ঋণের জোরালো প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে সৃষ্ট চাপের আরেকটি উৎস হলো_বেসরকারি খাতে ঋণের জোরালো প্রবৃদ্ধি, যা আমদানি চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চলতি অর্থবছরে মার্চ মাস শেষে 'ব্যাপক অর্থ' সরবরাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। মূলত, নিট অভ্যন্তরীণ সম্পদের জোরালো বৃদ্ধির (২৭ দশমিক ২) কারণেই 'ব্যাপক অর্থ' সরবরাহ এত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিট অভ্যন্তরীণ সম্পদের মূল উপাদান অভ্যন্তরীণ ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণের এ উচ্চ প্রবৃদ্ধি চলতি হিসাবের ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করেছে।"
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আট সুপারিশ : চাপ প্রশমনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আট দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এগুলো হচ্ছে_১. টাকা-ডলারের বিনিময় হার চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ণীত হওয়া অর্থাৎ টাকার মূল্যমান আরো হ্রাস পেতে দেওয়া। এতে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের আন্তপ্রবাহে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বিওপির ওপর চাপ কমবে। ২. রক্ষণশীল মুদ্রানীতি অনুসরণ করা। এতে যদিও বাজার সুদ হার বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু এর ফলে ব্যাপক অর্থ সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং বিওপির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে। তবে এ ক্ষেত্রে রক্ষণশীল মুদ্রানীতি অনুসরণে রাজস্বনীতি মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অ-আর্থিক সরকারি খাতে ঋণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বেশি মাত্রায় ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং নিকট ভবিষ্যতে তা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় সরকারি খাতে (রাষ্ট্রায়ত্ত খাতসহ) ঋণ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখার জন্য রক্ষণশীল রাজস্বনীতি যৌক্তিক হবে। সরকার যদি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এমটিএমএফে উলি্লখিত মাত্রায় ঋণ গ্রহণ অব্যাহত রাখে, তবে ক্রাউডিং আউট এফেক্টের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে বেশি কমে যেতে পারে, যা নির্ধারিত জিডিপি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে না। ৩. আর্থিক হিসাবের আন্তপ্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যকীয় হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য প্রাপ্তি বৃদ্ধি করতে হবে, উন্নয়ন বাজেটে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি করতে হবে। ৪. ঋণ মওকুফ সুবিধা ব্যবহার উপযোগী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে, তাহলে মূলধনী হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ বাড়বে। ৫. চলতি হিসাবের ভারসাম্যকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন শ্রমবাজার অন্বেষণ এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। ৬. বিপিসির নামে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব খোলার কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে, তাহলে হঠাৎ তেলের আমদানি মূল্য পরিশোধের সূত্রে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সৃষ্টি হবে না, বিনিময় হারেও চাপ আসবে না। ৭. রপ্তানিমূল্য যথাসময়ে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে, যা আর্থিক হিসাবে ট্রেড ক্রেডিট খাতে ঘাটতি কমাবে। ৮. বিপিসি বাবদ ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য তেলের অভ্যন্তরীণ মূল্য ধীরে ধীরে বাড়ানো যেতে পারে, তাহলে বিপিসির ব্যাংক ঋণের তথা বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কমবে।
সরকারের কাছে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'অর্থবছর ২০১১-তে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশিত ধারাতে অগ্রসর হওয়ায় আমদানি চাহিদা ও অভ্যন্তরীণ ঋণের জোরালো প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) তার প্রভাব পড়ে। চলতি হিসাবে (ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স-সিএবি) উদ্বৃত্তের পরিমাণ বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় হ্রাস পায় এবং ২০১০ সালের আগস্ট মাস থেকে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালেন্স-ওবি) ঘাটতি অবস্থার সূচনা হয়, যা এখনো চলছে। বৈদেশিক লেনদেন হিসাবে ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয়, এ ধারায় অগ্রসর হলে সামনের মাসগুলোতে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য বিপুল চাপের সম্মুখীন হবে।'
http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Entertainment&pub_no=551&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=2
সরকারের কাছে দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি হিসাব এবং মূলধনী হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার পরও মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ কমছে। তাই আর্থিক হিসাবে ঘাটতি থাকায় চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে এবং নীতিগত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকবে। মূলত এ চাপের প্রভাবে ইতিমধ্যেই টাকার বিনিময় হার বেশ কিছুটা
কমেছে। ২০১০ সালের ৩০ জুন থেকে ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত টাকার বিনিময় হার ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো জানিয়েছে, সামনের মাসগুলোতে যদি চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দেয় এবং মূলধনী হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ বৃদ্ধি না পায়, তবে আর্থিক হিসাবের বর্তমান পরিস্থিতিতে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে বিপুল ঘাটতি দেখা দেবে। এটি টাকা-ডলারের বিনিময় হারে আরো অবমূল্যায়ন চাপ সৃষ্টি করবে।
বিওপিতে চাপ সৃষ্টি হবে তিন কারণে : বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টির উৎস হবে তিনটি। এগুলো হচ্ছে_চলতি হিসাবের ভারসাম্য (সিএবি), আর্থিক হিসাবে (ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি এবং বেসরকারি খাতের ঋণের জোরালো প্রবৃদ্ধি।
চলতি হিসাবের খাতগুলোর পরিসংখ্যান হচ্ছে_গত জুলাই থেকে মার্চ সময়ের মধ্যে রপ্তানি ও আমদানির প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ও ২৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থবছর শেষে অর্থাৎ চলতি জুন মাস শেষে তা যথাক্রমে ২২ দশমিক ৭ এবং ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে অনুমান করা যাচ্ছে। এ ছাড়া জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেবা, আয়, চলতি হস্তান্তর ও চলতি হিসাবে ঘাটতি যথাক্রমে ১ দশমিক ৬, দশমিক ৯, ৭ দশমিক ৯ এবং দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুন শেষে এ হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৪, ১ দশমিক ৪, ১১ দশমিক ৯ এবং ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে বলে মনে করা যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, 'প্রাথমিকভাবে আর্থিক হিসাবের ঘাটতি সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে চাপের উৎস হিসেবে দেখা দিলেও সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সামনের মাসগুলোতে চলতি হিসাবের লেনদেনও সম্ভাব্য চাপের উৎস হিসেবে দেখা দেবে। কোনো পলিসিগত হস্তক্ষেপ না হলে বর্তমান ধারা অনুযায়ী বছর শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়াবে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।'
আর্থিক হিসাবের খাতগুলোর পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে সম্ভাব্য চাপের দ্বিতীয় উৎস আর্থিক হিসাবে ঘাটতি।'
বেসরকারি খাতের ঋণের জোরালো প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে সৃষ্ট চাপের আরেকটি উৎস হলো_বেসরকারি খাতে ঋণের জোরালো প্রবৃদ্ধি, যা আমদানি চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চলতি অর্থবছরে মার্চ মাস শেষে 'ব্যাপক অর্থ' সরবরাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। মূলত, নিট অভ্যন্তরীণ সম্পদের জোরালো বৃদ্ধির (২৭ দশমিক ২) কারণেই 'ব্যাপক অর্থ' সরবরাহ এত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিট অভ্যন্তরীণ সম্পদের মূল উপাদান অভ্যন্তরীণ ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণের এ উচ্চ প্রবৃদ্ধি চলতি হিসাবের ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করেছে।"
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আট সুপারিশ : চাপ প্রশমনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আট দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এগুলো হচ্ছে_১. টাকা-ডলারের বিনিময় হার চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ণীত হওয়া অর্থাৎ টাকার মূল্যমান আরো হ্রাস পেতে দেওয়া। এতে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের আন্তপ্রবাহে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বিওপির ওপর চাপ কমবে। ২. রক্ষণশীল মুদ্রানীতি অনুসরণ করা। এতে যদিও বাজার সুদ হার বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু এর ফলে ব্যাপক অর্থ সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং বিওপির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে। তবে এ ক্ষেত্রে রক্ষণশীল মুদ্রানীতি অনুসরণে রাজস্বনীতি মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অ-আর্থিক সরকারি খাতে ঋণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বেশি মাত্রায় ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবং নিকট ভবিষ্যতে তা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় সরকারি খাতে (রাষ্ট্রায়ত্ত খাতসহ) ঋণ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখার জন্য রক্ষণশীল রাজস্বনীতি যৌক্তিক হবে। সরকার যদি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এমটিএমএফে উলি্লখিত মাত্রায় ঋণ গ্রহণ অব্যাহত রাখে, তবে ক্রাউডিং আউট এফেক্টের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে বেশি কমে যেতে পারে, যা নির্ধারিত জিডিপি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে না। ৩. আর্থিক হিসাবের আন্তপ্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যকীয় হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য প্রাপ্তি বৃদ্ধি করতে হবে, উন্নয়ন বাজেটে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি করতে হবে। ৪. ঋণ মওকুফ সুবিধা ব্যবহার উপযোগী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে, তাহলে মূলধনী হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ বাড়বে। ৫. চলতি হিসাবের ভারসাম্যকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন শ্রমবাজার অন্বেষণ এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। ৬. বিপিসির নামে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব খোলার কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে, তাহলে হঠাৎ তেলের আমদানি মূল্য পরিশোধের সূত্রে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সৃষ্টি হবে না, বিনিময় হারেও চাপ আসবে না। ৭. রপ্তানিমূল্য যথাসময়ে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে, যা আর্থিক হিসাবে ট্রেড ক্রেডিট খাতে ঘাটতি কমাবে। ৮. বিপিসি বাবদ ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য তেলের অভ্যন্তরীণ মূল্য ধীরে ধীরে বাড়ানো যেতে পারে, তাহলে বিপিসির ব্যাংক ঋণের তথা বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কমবে।
সরকারের কাছে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'অর্থবছর ২০১১-তে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশিত ধারাতে অগ্রসর হওয়ায় আমদানি চাহিদা ও অভ্যন্তরীণ ঋণের জোরালো প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) তার প্রভাব পড়ে। চলতি হিসাবে (ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স-সিএবি) উদ্বৃত্তের পরিমাণ বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় হ্রাস পায় এবং ২০১০ সালের আগস্ট মাস থেকে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালেন্স-ওবি) ঘাটতি অবস্থার সূচনা হয়, যা এখনো চলছে। বৈদেশিক লেনদেন হিসাবে ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয়, এ ধারায় অগ্রসর হলে সামনের মাসগুলোতে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য বিপুল চাপের সম্মুখীন হবে।'
http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Entertainment&pub_no=551&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=2
Comments
Post a Comment