সরকারের মাত্রাতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ: মূল্যস্ফীতি আরো বাড়ার আশঙ্কা

(শীর্ষ নিউজ ডটকম): বাজেট ঘাটতিপূরণ করতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে মাত্রাতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করছে সরকার। ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল না হতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হলেও তা কোন কাজে আসছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকার আরও ঋণ নিতে পারে বলে সূত্রে জানায়। এমনিতেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোন পদক্ষেপ কাজে আসছে না। তার ওপর এ ঋণে চাপের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক লেনদেনের (বিওপি) ভারসাম্যতা।
জানা যায়, চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ধার করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরের ১২ জুন পর্যন্ত সরকারের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রকৃত ঋণ নেয়া হয় ১৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। যার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেয়া হয়েছে ৭ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা।
ঘাটতি বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরে কোনোভাবেই মূল্যস্ফীতির হার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু এ অর্থ-বছরের মে মাসে এসে বার্ষিক গড় মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এপ্রিলে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
ঋণ গ্রহণের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহি পরিচালক এসকে সুর চৌধুরী শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, 'যদি সরকারের ঋণের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে তা হলে মুদ্রানীতি পরিবর্তন করে যা যা করা দরকার তা করা হবে।'
এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত সপ্তাহে রেপো ও রিভার্স রেপোর হার চতুর্থবারের মতো বাড়ানো হয়েছে। ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে রেপোর হার করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর রিভার্স রেপোর হার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়।
রেপোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সুদ দিতে হয়। অন্যদিকে রিভার্স রেপোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রেজারি বিল ফেরত দিয়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে টাকা ঋণ হিসেবে তুলে নেয়। অবশ্য এজন্য ব্যাংকগুলো সুদ পায়। এটা মূলত বাজারে তারল্য প্রবাহ ঠিক রাখার একটি কৌশল। যাতে বাজারে ঋণ প্রবাহ কমে আসে। তবে এটি সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতিকেই প্রভাবিত করে।
এদিকে শেয়ার বাজারে ধসের পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে চরম তারল্য সংকট দেখা দেয়। প্রায় বন্ধ হয়ে যায় নতুন বিনিয়োগ। বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে নতুন ঋণ না পাওয়ার অভিযোগ উঠে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তারল্যে আছে বলে দাবি করা হয়। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ আমানত ও আন্তঃব্যাংকিং লেনদেনের হিসাবায়ন পদ্ধতি সহজ করা হয়। ফলে বাজারে নতুন করে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূলস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। আসন্ন ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট ব্যাংক ঋণ নির্ভর এবং উচ্চাভিলাষী। এ বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবাহ কমে যাবে। ফলে নতুন বিনিয়োগ হবে না। বাড়বে মূল্যস্ফীতি। অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলী খানের দাবি, 'মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই।'
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ এএএম/ এস/ ০৭.৩১ ঘ.)

Comments