কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত শেয়ার পুনঃক্রয় আর্থিক খাতে ঝুঁকি বাড়াবে

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান কোম্পানি আইন-১৯৯৪ সংশোধন করে শেয়ার পুনঃক্রয় বা 'বাই ব্যাক' ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শেয়ার বাই-ব্যাক করার অবাধ সুযোগ দিলে তা আর্থিক খাতে ব্যাপক ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ( আইসিএবি), ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড অ্যাকউন্টিং ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ (আইসিএমএবি), অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি রেস ও আইসিএসবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সূত্র জানায়, কোম্পানি আইনে বাই ব্যাক ব্যবস্থা সংযোজন করে সংসদের চলতি অধিবেশনেই অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে বৈঠকে যোগদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ এসেছে। বৈঠকে এসব সুপারিশ আলোচনা করে কোম্পানি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে ভয়াবহ ধসের পর গত মার্চে পুঁজিবাজারের জন্য 'বাই ব্যাক' নিয়ম চালুর কথা জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তখন তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, কোম্পানি আইন সংশোধন করে এতে বাই ব্যাক করার নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করে তা অনুমোদনের জন্য চলতি সংসদে পাঠানো হবে।
কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এর ৫৮ ধারায় কোম্পানি কর্তৃক তার নিজস্ব শেয়ার ক্রয় বা এ উদ্দেশ্যে ঋণদানে বাধা-নিষেধ বিষয়ে বলা আছে, শেয়ার দ্বারা সীমিত দায় কোম্পানি তার নিজস্ব শেয়ার অথবা তা যে পাবলিক কোম্পানির অধীন কোম্পানি সেই কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করতে পারবে না, যদি না ওই ক্রয়ের ফলে যে মূলধন হ্রাস হয় তা ৫৯ থেকে ৭০ পর্যন্ত ধারাগুলোতে বিধৃত পদ্ধতিতে কার্যকর এবং অনুমোদন করা হয়।
এতে বলা আছে, শেয়ার দ্বারা সীমিত দায় বিশিষ্ট কোনো কোম্পানি, যা প্রাইভেট কোম্পানি নয় বা কোনো পাবলিক কোম্পানির অধীন কোম্পানি নয়, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ঋণ, গ্যারান্টি বা জামানত বা অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে তার নিজস্ব শেয়ার ক্রয় বা ক্রয়-সংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে কোনো ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেবে না। তবে শর্ত থাকে যে, যদি ঋণ প্রদান করা কোনো কোম্পানির সাধারণ ব্যবসার অংশ হয় তবে, তার সাধারণ ব্যবসা চালাতে থাকাকালে, ওই কোম্পানি যে ঋণ দেয় তা দেওয়ার ব্যাপারে এ ধারার কোনো কিছুই বাধা হবে না।
বিদ্যমান আইনে বলা আছে, কোনো কোম্পানি এ ধারার বিধান লঙ্ঘন করে কোনো কিছু করলে সে কোম্পানি এবং তার প্রত্যেক কর্মকর্তা, যিনি জ্ঞাতসারে ও ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের কাজ করলে তিনিও এজন্য দোষী হবেন। এ অপরাধে তিনি অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ আইনের ধারা-১৫৪-এর অধীনে ইস্যুকৃত কোনো অগ্রাধিকার শেয়ার পুনরুদ্ধার করার জন্য কোম্পানির অধিকারকে এ ধারার কোনো কিছুই ক্ষুণ্ন করবে না।
কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর ৫৮ ধারার প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সুপারিশে বলা হয়েছে, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ৫৮ ধারার কোনো কোম্পানির নিজস্ব শেয়ার ক্রয়ের ফলে মূলধন হ্রাস পাওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ৫৯ থেকে ৭০ পর্যন্ত ধারাগুলোর নির্দেশনার পরিপালন আবশ্যকীয় করা হয়েছে।
ফলে প্রস্তাবিত ৫৮(ক) ধারাকে এ আইনের অন্যান্য ধারার ওপর প্রাধান্য না দিলে এটি কার্যকর করা সহজসাধ্য হবে না। প্রস্তাবিত ৫৮(ক) ধারার প্রথমে, 'এ আইনের কোন ধারার অধিকার অক্ষুণ্ন না করে' এর পরিবর্তে 'এই আইনের অন্য কোন ধারায় যা কিছুই থাকুক না কেন' সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাত দফা সুপারিশে বলা হয়েছে, শেয়ার বাই ব্যাকের প্রক্রিয়াটি কোন মূল্যে সম্পাদিত হবে এ বিষয়ে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কোনো নির্দেশনা দেওয়া নেই। শেয়ার বাই ব্যাকের ফলে যেহেতু শেয়ার মূলধন কমবে সেহেতু এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিবেচনা করা সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সুপারিশগুলো হচ্ছে_ শেয়ার বাই ব্যাকের প্রক্রিয়াটি ইস্যু মূল্যে বা ফেস ভ্যালুতে সম্পন্ন হলে প্রস্তাবিত সংশোধনীর উপধারা (১) এর অনুচ্ছেদ (গ) আক্ষরিক অর্থে অসাঞ্জমস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে। কেননা এক্ষেত্রে কখনোই মুনাফা অর্জন করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশে বলা হয়েছে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শেয়ার বাই ব্যাক করার অবাধ সুযোগ দিলে তা আর্থিক খাতে ব্যাপক ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য কোম্পানি আইনের বিদ্যমান ৫৮ ধারার অতিরিক্ত অন্য কোনো বিশেষ বিধান প্রযোজ্য না করাটাই সমীচীন হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫৮-ক ধারা কার্যকর হবে না মর্মে একটি অনুচ্ছেদ প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করাই যথার্থ হবে।

http://www.samakal.com.bd/details.php?news=48&action=main&menu_type=&option=single&news_id=164528&pub_no=722&type=

Comments