প্রাথমিক শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনের বিষয়টি আগামী এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করবে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এই পদ্ধতি সংস্কারের লৰ্যে ইতোমধ্যেই কমিশনের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবের ওপর মতামত গ্রহণের জন্য শীঘ্রই দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার এ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এবং বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজসহ (বিএপিএলসি) বাজার সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কমিশন পুনর্গঠনের আগে প্রণীত খসড়াকে ভিত্তি করেই বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারের লৰ্যে এসইসির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এসইসির প্রসত্মাবে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) বিবেচনায় নিয়ে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। এৰেত্রে লেনদেন শুরুর আগে কোন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ও আয়ের (পি/ই) অনুপাত ১৫ এর বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য কোম্পানির শেয়ারপ্রতি এনএভির পাঁচ গুণের নিচে থাকতে হবে। তবে উদ্যোক্তাদের জন্য শেয়ারের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নির্দেশক মূল্য এনএভির চেয়ে বেশি নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
কমিশনের প্রস্তাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দর প্রসত্মাব (বিডিং) প্রক্রিয়ার মধ্যে বরাদ্দ শেয়ার বিক্রির নিষেধাজ্ঞা (লক ইন) ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। দর প্রসত্মাব প্রক্রিয়ার সময়সীমা তিন দিনের পরিবর্তে দু'দিন করার কথা বলা হয়েছে। দর প্রস্তাবের মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের দু'দিনের মধ্যে আইপিও বিবরণী (প্রসপেক্টাস) এসইসিতে জমা এবং ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরুর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে। বর্তমানে দর প্রস্তাবের পর ২৫ দিনের মধ্যে আইপিওর টাকা জমা নিতে হয়।
এসইসির খসড়া অনুযায়ী নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের লৰ্যে রোড শো' আয়োজনের কমপৰে ৫ দিন আগে কোম্পানির খসড়া বিবরণীর (প্রসপেক্টাস) ছাপানো কপি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছে পাঠাতে হবে। তবে এতে কোনভাবেই নির্দেশক মূল্যের কোন প্রসত্মাব করা যাবে না। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার জন্য আইসিএবি, আইসিএমএবি, দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এতে কোম্পানির সঙ্গে সংশিস্নষ্ট কোন ব্যক্তি থাকতে পারবেন না।
উলেস্নখ্য, দীর্ঘদিন পরীৰা-নিরীৰার পর পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের লৰ্যে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই সফলভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে এই পদ্ধতি চালু করার জন্য গত বছরের ৯ মার্চ বিধিমালা জারি করে এসইসি। প্রচলিত পদ্ধতির নির্ধারিত মূল্যের (ফিঙ্ড প্রাইস) পাশাপাশি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণের লৰ্যে ২০০৬ সালের সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়। বুকবিল্ডিং পদ্ধতি চালু হলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় এটি প্রয়োগ করতে সময় লেগেছে এক বছর। ২০১০ সালের মার্চে এই পদ্ধতির প্রয়োগ শুরম্ন হয়।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অংশ হিসেবে দর প্রসত্মাবের (বিডিং) মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার (লক ইন) মেয়াদ খুবই কম হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেশি দরে শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই শেয়ারের দর কমে যায়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রসত্ম হন। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যনত্ম অনুমোদন পাওয়া সব কোম্পানিই লেনদেন শুরম্নর আগে থেকেই অতি মূল্যায়িত হয়েছে।
সংশিস্নষ্ট বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত মূল্য (ফিঙ্ড প্রাইস) পদ্ধতির ৰেত্রে কোন কোম্পানির শেয়ারের দর মৌলভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হলে এসইসি তা কাটছাঁট করতে পারে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্টভাবে সেই সুযোগ নেই। আইনের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সংশিস্নষ্ট কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের প্রেৰাপটে গত ২২ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের অতি মূল্যায়নের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে বলা হয়, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার আগেই শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে। এর ফলে বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ স্থানানত্মরিত হয়ে যাচ্ছে। এই পদ্ধতি মূল্য নির্ধারণের পর প্রাথমিক গণপ্রসত্মাবের (আইপিও) মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ায় শেয়ারবাজারে বর্তমান অর্থ সঙ্কট বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার প্রসত্মাব করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই প্রসত্মাবে সম্মতি প্রকাশ করে বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা না ফেরা পর্যনত্ম বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন। এর ভিত্তিতে এসইসি বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।
পরে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারের লৰ্যে পাবলিক ইসু্য বিধিমালা, ২০০৬-এর প্রসত্মাবিত সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এসইসি। এ বিষয়ে মতামত গ্রহণের জন্য গত ২১ মার্চ দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বিএমবিএ এবং বিএপিএলসির সঙ্গে বৈঠক করে এসইসি। ওই বৈঠকে এসইসির পৰ থেকে সংশোধনীর একটি খসড়া উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রসত্মাবের ওপর মতামত দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়। পরে ২৮ মার্চ এসইসিতে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে চার প্রতিষ্ঠানের পৰ থেকে পুঁজিবাজার তদনত্ম কমিটির প্রতিবেদন পেশ করার আগে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার পৰে মত প্রকাশ করা হয়। এ কারণে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারে এসইসির কার্যক্রম থেমে যায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুনর্গঠনের পর পুঁজিবাজার সংশিস্নষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি-বিধানের সঙ্গে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে এসইসি। আগের খসড়ার ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই কমিশনের পৰ থেকে একটি প্রসত্মাব তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাজার সংশিস্নষ্টদের মতামত গ্রহণের জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি বৈঠক ডাকা হতে পারে। ওই বৈঠকের পর কমিশনের পৰ থেকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সংস্কারের চূড়ানত্ম প্রসত্মাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পরই আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=34&dd=2011-06-20&ni=62321
সূত্র জানায়, কমিশন পুনর্গঠনের আগে প্রণীত খসড়াকে ভিত্তি করেই বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারের লৰ্যে এসইসির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এসইসির প্রসত্মাবে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) বিবেচনায় নিয়ে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। এৰেত্রে লেনদেন শুরুর আগে কোন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ও আয়ের (পি/ই) অনুপাত ১৫ এর বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য কোম্পানির শেয়ারপ্রতি এনএভির পাঁচ গুণের নিচে থাকতে হবে। তবে উদ্যোক্তাদের জন্য শেয়ারের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নির্দেশক মূল্য এনএভির চেয়ে বেশি নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
কমিশনের প্রস্তাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দর প্রসত্মাব (বিডিং) প্রক্রিয়ার মধ্যে বরাদ্দ শেয়ার বিক্রির নিষেধাজ্ঞা (লক ইন) ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। দর প্রসত্মাব প্রক্রিয়ার সময়সীমা তিন দিনের পরিবর্তে দু'দিন করার কথা বলা হয়েছে। দর প্রস্তাবের মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের দু'দিনের মধ্যে আইপিও বিবরণী (প্রসপেক্টাস) এসইসিতে জমা এবং ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরুর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে। বর্তমানে দর প্রস্তাবের পর ২৫ দিনের মধ্যে আইপিওর টাকা জমা নিতে হয়।
এসইসির খসড়া অনুযায়ী নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের লৰ্যে রোড শো' আয়োজনের কমপৰে ৫ দিন আগে কোম্পানির খসড়া বিবরণীর (প্রসপেক্টাস) ছাপানো কপি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছে পাঠাতে হবে। তবে এতে কোনভাবেই নির্দেশক মূল্যের কোন প্রসত্মাব করা যাবে না। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার জন্য আইসিএবি, আইসিএমএবি, দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে এতে কোম্পানির সঙ্গে সংশিস্নষ্ট কোন ব্যক্তি থাকতে পারবেন না।
উলেস্নখ্য, দীর্ঘদিন পরীৰা-নিরীৰার পর পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের লৰ্যে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই সফলভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে এই পদ্ধতি চালু করার জন্য গত বছরের ৯ মার্চ বিধিমালা জারি করে এসইসি। প্রচলিত পদ্ধতির নির্ধারিত মূল্যের (ফিঙ্ড প্রাইস) পাশাপাশি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণের লৰ্যে ২০০৬ সালের সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়। বুকবিল্ডিং পদ্ধতি চালু হলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় এটি প্রয়োগ করতে সময় লেগেছে এক বছর। ২০১০ সালের মার্চে এই পদ্ধতির প্রয়োগ শুরম্ন হয়।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির অংশ হিসেবে দর প্রসত্মাবের (বিডিং) মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার (লক ইন) মেয়াদ খুবই কম হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেশি দরে শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই শেয়ারের দর কমে যায়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রসত্ম হন। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে এ পর্যনত্ম অনুমোদন পাওয়া সব কোম্পানিই লেনদেন শুরম্নর আগে থেকেই অতি মূল্যায়িত হয়েছে।
সংশিস্নষ্ট বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত মূল্য (ফিঙ্ড প্রাইস) পদ্ধতির ৰেত্রে কোন কোম্পানির শেয়ারের দর মৌলভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হলে এসইসি তা কাটছাঁট করতে পারে। কিন্তু বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্টভাবে সেই সুযোগ নেই। আইনের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সংশিস্নষ্ট কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের প্রেৰাপটে গত ২২ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের অতি মূল্যায়নের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে বলা হয়, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার আগেই শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছে। এর ফলে বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ স্থানানত্মরিত হয়ে যাচ্ছে। এই পদ্ধতি মূল্য নির্ধারণের পর প্রাথমিক গণপ্রসত্মাবের (আইপিও) মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ায় শেয়ারবাজারে বর্তমান অর্থ সঙ্কট বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার প্রসত্মাব করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই প্রসত্মাবে সম্মতি প্রকাশ করে বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা না ফেরা পর্যনত্ম বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন। এর ভিত্তিতে এসইসি বুকবিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।
পরে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারের লৰ্যে পাবলিক ইসু্য বিধিমালা, ২০০৬-এর প্রসত্মাবিত সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এসইসি। এ বিষয়ে মতামত গ্রহণের জন্য গত ২১ মার্চ দুই স্টক এঙ্চেঞ্জ, বিএমবিএ এবং বিএপিএলসির সঙ্গে বৈঠক করে এসইসি। ওই বৈঠকে এসইসির পৰ থেকে সংশোধনীর একটি খসড়া উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রসত্মাবের ওপর মতামত দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়। পরে ২৮ মার্চ এসইসিতে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে চার প্রতিষ্ঠানের পৰ থেকে পুঁজিবাজার তদনত্ম কমিটির প্রতিবেদন পেশ করার আগে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার পৰে মত প্রকাশ করা হয়। এ কারণে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারে এসইসির কার্যক্রম থেমে যায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুনর্গঠনের পর পুঁজিবাজার সংশিস্নষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি-বিধানের সঙ্গে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে এসইসি। আগের খসড়ার ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই কমিশনের পৰ থেকে একটি প্রসত্মাব তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাজার সংশিস্নষ্টদের মতামত গ্রহণের জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি বৈঠক ডাকা হতে পারে। ওই বৈঠকের পর কমিশনের পৰ থেকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সংস্কারের চূড়ানত্ম প্রসত্মাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পরই আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=34&dd=2011-06-20&ni=62321
Comments
Post a Comment