সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বোনাস লভ্যাংশের ২১ হাজার শেয়ার সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিচ হ্যাচারির কোম্পানি সচিব নূর ইসলাম ও কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আবদুল আলিম। ওই শেয়ার বিক্রি করে তিনি ও তার এক সহযোগী ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গত অক্টোবরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্তে এই শেয়ার জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। শেয়ারবাজারে এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা এটাই প্রথম। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে গত বছরের নভেম্বরেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ
কমিশনকেও (এসইসি) এ বিষয়ে নথিপত্র প্রেরণ করে ডিএসই। মজার ব্যাপার এর আট মাস পরও অভিযুক্ত নূর ইসলাম স্বপদেই বহাল রয়েছেন।
এ বিষয়ে নূর ইসলাম প্রথমে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে এ প্রতিবেদককে বলেন, 'আমি এ বিষয়ে জানি না, খেয়াল নেই। তবে একটা ভুল হয়েছিল। কি হয়েছিল, তা এখন আমার মনে নেই।' কোম্পানির চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও জানান, এ বিষয়ে তার কিছু মনে পড়ছে না। নথিপত্র দেখে বলতে পারবেন।
ডিএসই এক তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে বিচ হ্যাচারি কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ডিএসইর তদন্ত দল জানতে পারে, ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিচ হ্যাচারি কোম্পানির শেয়ার বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আবদুল আলিম ডিএসইর এসসিএল সিকিউরিটিজ নামক ব্রোকারেজ হাউস থেকে নিজস্ব বিও হিসাবের (১২০১৫৭০০২৬০১৩৩৫২) মাধ্যমে মোট ২১ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন; কিন্তু তিনি এ শেয়ার কখনোই কেনেননি। ডিএসই অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, আবদুল আলিমের এ বিও হিসাবে বিচ হ্যাচারির সাসপেন্স বিও হিসাব থেকে (কোম্পানি থেকে শেয়ারহোল্ডারদের হিসাবে শেয়ার প্রদানের বিও হিসাব) মোট ২০ হাজার ৫২০টি এবং ৪৮০টি বোনাস শেয়ার হস্তান্তর করা হয়।
এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে ডিএসইতে উপস্থিত হয়ে নূর ইসলাম ও মোঃ আবদুল আলিম বেআইনি এই কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করে গত বছরের ২৬ অক্টোবর ডিএসইর কাছে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ওই স্বীকারোক্তিতে নূর ইসলাম বলেন, 'প্রায় ১৫-২০ শেয়ারহোল্ডারের বোনাস শেয়ার আলিমের বিও হিসাবে। আমরা যে অন্যের শেয়ার আত্মসাৎ করেছি তা এমডি ও বোর্ড সদস্যরা জানেন না বা জড়িত নন।' নূর ইসলাম তার লিখিত স্বীকারোক্তিতে আরও বলেন, তিনি বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের এসইসিএল সিকিউরিটিজে এ দুটি বিও হিসাব পরিচালনা করেন। এর একটি মোঃ আবদুল আলিম এবং অপরটি তার নিজের নামে। এসব বিও হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা এবং চেক প্রদান করে। কোম্পানির সাসপেন্স হিসাব থেকে তিনি ২১ হাজার বোনাস শেয়ার আত্মসাৎ করে আবদুল আলিমের বিও হিসাবে বিক্রির জন্য প্রেরণ করেন।' নূর ইসলাম আরও স্বীকারোক্তি দেন, আবদুল আলিমের বিও হিসাবের মাধ্যমে বিচ হ্যাচারির যে ২১ হাজার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রয়লব্ধ আট লাখ ৫০ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
শেয়ার আত্মসাতের ঘটনায় অপর অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর আবদুল আলিমও একই দিন ডিএসইতে হাজির হয়ে তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত স্বীকারোক্তিতে বলেন, এসসিএল সিকিউরিটিজে মোঃ আবদুল আলিম নামে যে ২১ হাজার শেয়ার ছিল তার মালিক তিনি নন। রেকর্ড ডেটের পর বিভিন্ন শেয়ারহোল্ডারের শেয়ার কোম্পানি সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বিও হিসাবে পাঠান এবং এই শেয়ার বিক্রি থেকে ১২ লাখ টাকার মধ্যে তিনি চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়েছেন বাকি টাকা কোম্পানি সেক্রেটারি নূর ইসলাম নিয়েছেন।
এদিকে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের লভ্যাংশ বাবদ বোনাস শেয়ার আত্মসাতের ঘটনা উদঘাটিত হওয়ার আট মাস পরও এই কর্মকর্তা কোম্পানিতে স্বপদে বহাল আছেন। যদিও গত ২৮ অক্টোবর ডিএসইর এ বিষয়ে এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছিলেন, তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। একই দিন প্রেরিত অপর এক চিঠিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম ডিএসইকে বলেন, কোম্পানির কম্পিউটার অপারেটর আবদুল আলিমের নামে বেআইনিভাবে ২১ হাজার শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার টেলিফোনে চেয়ারম্যান ওয়াহিউদ্দিন এ. চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়গুলো তার জানা নেই। এমডি সাহেব জানেন।
ডিএসই তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ) বিধিমালা, ১৯৯৫ এর ৪(১) ও ৪(২) বিধি এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ ১৭(এ) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিভাগে সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। বিচ হ্যাচারি সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার জানা নেই।
http://www.samakal.com.bd/details.php?news=14&action=main&option=single&news_id=164587&pub_no=722
কমিশনকেও (এসইসি) এ বিষয়ে নথিপত্র প্রেরণ করে ডিএসই। মজার ব্যাপার এর আট মাস পরও অভিযুক্ত নূর ইসলাম স্বপদেই বহাল রয়েছেন।
এ বিষয়ে নূর ইসলাম প্রথমে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে এ প্রতিবেদককে বলেন, 'আমি এ বিষয়ে জানি না, খেয়াল নেই। তবে একটা ভুল হয়েছিল। কি হয়েছিল, তা এখন আমার মনে নেই।' কোম্পানির চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও জানান, এ বিষয়ে তার কিছু মনে পড়ছে না। নথিপত্র দেখে বলতে পারবেন।
ডিএসই এক তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে বিচ হ্যাচারি কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ডিএসইর তদন্ত দল জানতে পারে, ২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিচ হ্যাচারি কোম্পানির শেয়ার বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আবদুল আলিম ডিএসইর এসসিএল সিকিউরিটিজ নামক ব্রোকারেজ হাউস থেকে নিজস্ব বিও হিসাবের (১২০১৫৭০০২৬০১৩৩৫২) মাধ্যমে মোট ২১ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন; কিন্তু তিনি এ শেয়ার কখনোই কেনেননি। ডিএসই অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, আবদুল আলিমের এ বিও হিসাবে বিচ হ্যাচারির সাসপেন্স বিও হিসাব থেকে (কোম্পানি থেকে শেয়ারহোল্ডারদের হিসাবে শেয়ার প্রদানের বিও হিসাব) মোট ২০ হাজার ৫২০টি এবং ৪৮০টি বোনাস শেয়ার হস্তান্তর করা হয়।
এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে ডিএসইতে উপস্থিত হয়ে নূর ইসলাম ও মোঃ আবদুল আলিম বেআইনি এই কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করে গত বছরের ২৬ অক্টোবর ডিএসইর কাছে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ওই স্বীকারোক্তিতে নূর ইসলাম বলেন, 'প্রায় ১৫-২০ শেয়ারহোল্ডারের বোনাস শেয়ার আলিমের বিও হিসাবে। আমরা যে অন্যের শেয়ার আত্মসাৎ করেছি তা এমডি ও বোর্ড সদস্যরা জানেন না বা জড়িত নন।' নূর ইসলাম তার লিখিত স্বীকারোক্তিতে আরও বলেন, তিনি বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের এসইসিএল সিকিউরিটিজে এ দুটি বিও হিসাব পরিচালনা করেন। এর একটি মোঃ আবদুল আলিম এবং অপরটি তার নিজের নামে। এসব বিও হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা এবং চেক প্রদান করে। কোম্পানির সাসপেন্স হিসাব থেকে তিনি ২১ হাজার বোনাস শেয়ার আত্মসাৎ করে আবদুল আলিমের বিও হিসাবে বিক্রির জন্য প্রেরণ করেন।' নূর ইসলাম আরও স্বীকারোক্তি দেন, আবদুল আলিমের বিও হিসাবের মাধ্যমে বিচ হ্যাচারির যে ২১ হাজার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রয়লব্ধ আট লাখ ৫০ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
শেয়ার আত্মসাতের ঘটনায় অপর অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর আবদুল আলিমও একই দিন ডিএসইতে হাজির হয়ে তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত স্বীকারোক্তিতে বলেন, এসসিএল সিকিউরিটিজে মোঃ আবদুল আলিম নামে যে ২১ হাজার শেয়ার ছিল তার মালিক তিনি নন। রেকর্ড ডেটের পর বিভিন্ন শেয়ারহোল্ডারের শেয়ার কোম্পানি সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বিও হিসাবে পাঠান এবং এই শেয়ার বিক্রি থেকে ১২ লাখ টাকার মধ্যে তিনি চার লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়েছেন বাকি টাকা কোম্পানি সেক্রেটারি নূর ইসলাম নিয়েছেন।
এদিকে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের লভ্যাংশ বাবদ বোনাস শেয়ার আত্মসাতের ঘটনা উদঘাটিত হওয়ার আট মাস পরও এই কর্মকর্তা কোম্পানিতে স্বপদে বহাল আছেন। যদিও গত ২৮ অক্টোবর ডিএসইর এ বিষয়ে এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছিলেন, তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। একই দিন প্রেরিত অপর এক চিঠিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম ডিএসইকে বলেন, কোম্পানির কম্পিউটার অপারেটর আবদুল আলিমের নামে বেআইনিভাবে ২১ হাজার শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার টেলিফোনে চেয়ারম্যান ওয়াহিউদ্দিন এ. চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়গুলো তার জানা নেই। এমডি সাহেব জানেন।
ডিএসই তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ) বিধিমালা, ১৯৯৫ এর ৪(১) ও ৪(২) বিধি এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ ১৭(এ) ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিভাগে সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। বিচ হ্যাচারি সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার জানা নেই।
http://www.samakal.com.bd/details.php?news=14&action=main&option=single&news_id=164587&pub_no=722
Comments
Post a Comment