আইএমএফের শর্ত মেনে ঋণ নিলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নির্ধারণ পদ্ধতি দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটাবে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রকট হতে পারে। সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেয়ার নীতি দেশের মোট জিডিপিতে বিনিয়োগের হার কমিয়ে দিতে পারে। খাদ্য মূল্যের অব্যাহত বৃদ্ধি জনগণের ক্রয়ৰমতা হ্রাস করার ফলে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। বাণিজ্য অধিকহারে উম্মুক্তকরণের ফলে বাংলাদেশ বিদেশে তার বাজার হারাতে পারে, যা দেশীয় শিল্প কারখানার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের মার্চ মাসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা রিপোর্টে এ মনত্মব্য করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসিএফ ঋণ নিতে বাংলাদেশ যদি আইএমএফের প্রধন শর্তসমূহ বাসত্মবায়ন করে তাহলে তা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ যেমন- মুদ্রাস্ফীতি, লেনদেনের ভারসাম্য, বাণিজ্যের সাম্য, বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ওপর ঋণাত্বক প্রভাব পড়তে পারে।
উলেস্নখ্য, আনত্মর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) বর্ধিত ঋণ সুবিধা (ইসিএফ) কর্মসূচীর আওতায় অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহ লেনদেনের ভারসাম্য ও বাজেট ঘাটতি পূরণের লৰ্যে বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে ঋণ পেয়ে থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশ আনত্মর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে এক শ' কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সুবিধা পাওয়ার লৰ্যে আলোচনা করছে। আইএমএফ তার শর্তসমূহ যথাযথভাবে বাসত্মবায়ন সাপেৰে বাংলাদেশকে ঋণসুবিধা প্রদানে রাজি হয়েছে। আইএমএফের শর্তসমূহের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হচ্ছে- সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি, বাণিজ্য উদারীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে সরকারী হসত্মৰেপ বন্ধ, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের বেসরকারীকরণ, আয়কর ও মূল্যসংযোজন করের হার বৃদ্ধি।
মুদ্রাসঙ্কোচন নীতির প্রভাব
অন্বেষণের গবেষণায় দেখা যায় যে, আইএমএফের শর্তানুযায়ী মুদ্রাসঙ্কোচন নীতি গ্রহণ করা হলে তা বাংলাদেশের সঞ্চয়, বিনিয়োগ সামষ্টিক যোগান, মুদ্রানীতি, বেকারত্ব এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নির্ধারিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ ঋণের সুদের হারের সর্বোচ্চসীমা তুলে দেয়ায় সুদের হার বাড়তে থাকবে। আর সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বিনিয়োগ উলেস্নখযোগ্যহারে কমে যেতে পারে।
তথ্য উপাত্ত বিশেস্নষণে দেখা যায়, ২০০৬ সালে ঋণের সুদের হার ছিল ১১.০৬ শতাংশ এবং মোট জিডিপিতে বিনিয়োগের হার ছিল ২৪.৬৫ শতাংশ। ২০০৮ সালে ঋণের সুদের হার বেড়ে ১২.৬৩ শতাংশ হওয়ায় মোট জিডিপিতে বিনিয়োগের শতকরা হার কমে ২৪.২১ শতাংশ হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ২০১০ সালে সুদের হার বাড়া সত্ত্বেও সুদের সর্বোচ্চ সীমা (১৩ শতাংশ) আরোপ করার কারণে মোট জিডিপিতে বিনিয়োগের শতকরা হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেয়ার নীতি দেশের মোট জিডিপিতে বিনিয়োগের হার কমিয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, মুদ্রাসঙ্কোচন নীতির কারণে বিনিয়োগ হ্রাসের কারণে সামষ্টিক যোগান কমে যেতে পারে। অন্যদিকে খাদ্য মূল্যের অব্যাহত বৃদ্ধি জনগণের ক্রয়ৰমতা হ্রাস করার ফলে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে।
বাণিজ্য উদারীকরণের প্রভাব
আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী বাণিজ্য আরও উদারীকরণ করা হলে তা বাংলাদেশকে অধিক বাণিজ্য ঘাটতির দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং দেশের শিল্প-কারখানার ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় অধিক হারে বাণিজ্য উন্মুক্তকরণ দেশের সার্বিক আমদানি ব্যয় রফতানি আয়ের চেয়ে অনেক বেশি হবে। ফলে বৃদ্ধি পাবে বাণিজ্য ঘাটতি। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সাল থেকে আইএমএফের পরামর্শ শুনে বাণিজ্য অধিকহারে উন্মুক্তকরণের কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তথ্যউপাত্ত বিশেস্নষণে দেখা যায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৩৫ হাজার ৬৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ২৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় এক দশমিক ৭৫ শতাংশ। মাসওয়ারী উপাত্ত বিশেস্নষণে দেখা যায়, ২০১০ সালের জুলাই মাসে দেশের সার্বিক রফতানি আয় ছিল ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং আমদানি ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ৫৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০১০ সালের জুলাই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৮৭৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অপরপৰে ২০১০ সালের নবেম্বর মাসে দেশের সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৬ হাজার ১৫৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০১০ সালের জুলাই থেকে নবেম্বর এই পাঁচ মাসে দেশের সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬০৪ শতাংশ।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ২০১০ সালের জুলাই থেকে নবেম্বর এই পাঁচ মাসে রফতানি আয় কমেছে প্রায় ১৩.৪ শতাংশ এবং আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৬.৫০ শতাংশ। বাণিজ্য অধিক হারে উন্মুক্তকরণের ফলে বিদেশী পণ্য খুব সহজেই দেশীয় বাজারে প্রবেশ করবে। এতে দেশীয় পণ্য ভারতীয় বা চীনের অধিক ভতর্ুকিকৃত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোাগিতা পড়বে। ফলে বাংলাদেশ বিদেশে তার বাজার হারাতে পারে, যা দেশীয় শিল্প কারখানার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিনিময় হারের প্রভাব
উন্নয়ন অন্বেষণের মতে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নির্ধারণ পদ্ধতি দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটাবে। যার ফলে বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য ভারসাম্য ও লেনদেনের ভারসাম্য সর্বোপরি জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হসত্মৰেপ না থাকলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মূলধনের বহির্গমন ঘটতে পারে। তথ্যউপাত্ত বিশেস্নষণে দেখা যায়, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছর থেকে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মুদ্রা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯.২৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে প্রায় ২.৬৬ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে।
যদি বিনিময়হার নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে অধিকহারেব অবমূল্যায়িত হতে থাকবে। বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় অধিক হারে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে দেশের আমদানি ব্যয়ের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটবে। যার ফলে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন দেশে সার্বিক রফতানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির আধিক্য থাকবে। ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রকট হতে পারে। টাকার অব্যাহত অবমূল্যায়ন দেশের মূলধনী বাজারকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। আর তা নিয়ন্ত্রণে মুদ্রা সঙ্কোচন নীতি গ্রহণ করা হলে এবং দেশের সার্বিক সুদের হারের আংশিক হ্রাস ঘটলে বিপুল পরিমাণ মূলধন দেশ থেকে বহির্গমন হতে পারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের মার্চ মাসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা রিপোর্টে এ মনত্মব্য করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসিএফ ঋণ নিতে বাংলাদেশ যদি আইএমএফের প্রধন শর্তসমূহ বাসত্মবায়ন করে তাহলে তা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ যেমন- মুদ্রাস্ফীতি, লেনদেনের ভারসাম্য, বাণিজ্যের সাম্য, বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ওপর ঋণাত্বক প্রভাব পড়তে পারে।
উলেস্নখ্য, আনত্মর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) বর্ধিত ঋণ সুবিধা (ইসিএফ) কর্মসূচীর আওতায় অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহ লেনদেনের ভারসাম্য ও বাজেট ঘাটতি পূরণের লৰ্যে বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে ঋণ পেয়ে থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশ আনত্মর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে এক শ' কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সুবিধা পাওয়ার লৰ্যে আলোচনা করছে। আইএমএফ তার শর্তসমূহ যথাযথভাবে বাসত্মবায়ন সাপেৰে বাংলাদেশকে ঋণসুবিধা প্রদানে রাজি হয়েছে। আইএমএফের শর্তসমূহের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হচ্ছে- সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি, বাণিজ্য উদারীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে সরকারী হসত্মৰেপ বন্ধ, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের বেসরকারীকরণ, আয়কর ও মূল্যসংযোজন করের হার বৃদ্ধি।
মুদ্রাসঙ্কোচন নীতির প্রভাব
অন্বেষণের গবেষণায় দেখা যায় যে, আইএমএফের শর্তানুযায়ী মুদ্রাসঙ্কোচন নীতি গ্রহণ করা হলে তা বাংলাদেশের সঞ্চয়, বিনিয়োগ সামষ্টিক যোগান, মুদ্রানীতি, বেকারত্ব এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নির্ধারিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ ঋণের সুদের হারের সর্বোচ্চসীমা তুলে দেয়ায় সুদের হার বাড়তে থাকবে। আর সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বিনিয়োগ উলেস্নখযোগ্যহারে কমে যেতে পারে।
তথ্য উপাত্ত বিশেস্নষণে দেখা যায়, ২০০৬ সালে ঋণের সুদের হার ছিল ১১.০৬ শতাংশ এবং মোট জিডিপিতে বিনিয়োগের হার ছিল ২৪.৬৫ শতাংশ। ২০০৮ সালে ঋণের সুদের হার বেড়ে ১২.৬৩ শতাংশ হওয়ায় মোট জিডিপিতে বিনিয়োগের শতকরা হার কমে ২৪.২১ শতাংশ হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ২০১০ সালে সুদের হার বাড়া সত্ত্বেও সুদের সর্বোচ্চ সীমা (১৩ শতাংশ) আরোপ করার কারণে মোট জিডিপিতে বিনিয়োগের শতকরা হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেয়ার নীতি দেশের মোট জিডিপিতে বিনিয়োগের হার কমিয়ে দিতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, মুদ্রাসঙ্কোচন নীতির কারণে বিনিয়োগ হ্রাসের কারণে সামষ্টিক যোগান কমে যেতে পারে। অন্যদিকে খাদ্য মূল্যের অব্যাহত বৃদ্ধি জনগণের ক্রয়ৰমতা হ্রাস করার ফলে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে।
বাণিজ্য উদারীকরণের প্রভাব
আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী বাণিজ্য আরও উদারীকরণ করা হলে তা বাংলাদেশকে অধিক বাণিজ্য ঘাটতির দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং দেশের শিল্প-কারখানার ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় অধিক হারে বাণিজ্য উন্মুক্তকরণ দেশের সার্বিক আমদানি ব্যয় রফতানি আয়ের চেয়ে অনেক বেশি হবে। ফলে বৃদ্ধি পাবে বাণিজ্য ঘাটতি। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সাল থেকে আইএমএফের পরামর্শ শুনে বাণিজ্য অধিকহারে উন্মুক্তকরণের কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তথ্যউপাত্ত বিশেস্নষণে দেখা যায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৩৫ হাজার ৬৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ২৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় এক দশমিক ৭৫ শতাংশ। মাসওয়ারী উপাত্ত বিশেস্নষণে দেখা যায়, ২০১০ সালের জুলাই মাসে দেশের সার্বিক রফতানি আয় ছিল ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং আমদানি ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ৫৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০১০ সালের জুলাই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৮৭৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অপরপৰে ২০১০ সালের নবেম্বর মাসে দেশের সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৬ হাজার ১৫৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০১০ সালের জুলাই থেকে নবেম্বর এই পাঁচ মাসে দেশের সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬০৪ শতাংশ।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, ২০১০ সালের জুলাই থেকে নবেম্বর এই পাঁচ মাসে রফতানি আয় কমেছে প্রায় ১৩.৪ শতাংশ এবং আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৬.৫০ শতাংশ। বাণিজ্য অধিক হারে উন্মুক্তকরণের ফলে বিদেশী পণ্য খুব সহজেই দেশীয় বাজারে প্রবেশ করবে। এতে দেশীয় পণ্য ভারতীয় বা চীনের অধিক ভতর্ুকিকৃত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোাগিতা পড়বে। ফলে বাংলাদেশ বিদেশে তার বাজার হারাতে পারে, যা দেশীয় শিল্প কারখানার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিনিময় হারের প্রভাব
উন্নয়ন অন্বেষণের মতে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নির্ধারণ পদ্ধতি দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটাবে। যার ফলে বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য ভারসাম্য ও লেনদেনের ভারসাম্য সর্বোপরি জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হসত্মৰেপ না থাকলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মূলধনের বহির্গমন ঘটতে পারে। তথ্যউপাত্ত বিশেস্নষণে দেখা যায়, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছর থেকে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মুদ্রা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯.২৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে প্রায় ২.৬৬ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে।
যদি বিনিময়হার নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে অধিকহারেব অবমূল্যায়িত হতে থাকবে। বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় অধিক হারে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে দেশের আমদানি ব্যয়ের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটবে। যার ফলে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন দেশে সার্বিক রফতানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির আধিক্য থাকবে। ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রকট হতে পারে। টাকার অব্যাহত অবমূল্যায়ন দেশের মূলধনী বাজারকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। আর তা নিয়ন্ত্রণে মুদ্রা সঙ্কোচন নীতি গ্রহণ করা হলে এবং দেশের সার্বিক সুদের হারের আংশিক হ্রাস ঘটলে বিপুল পরিমাণ মূলধন দেশ থেকে বহির্গমন হতে পারে।
Comments
Post a Comment