তারল্য সঙ্কট কাটিয়ে উঠছে ব্যাঙ্কিং খাত * কলমানির সুদের হার কমে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে * কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং ও নির্দেশনা অব্যাহত * ব্যাংকগুলোর হাতে
ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট কাটতে শুরু করছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তারল্য ফিরে আসার কারণেই নগদ অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে ভয়াবহ তারল্য সঙ্কট ছিল তা স্বাভাবিক হচ্ছে। এতে কলমানির (অনত্মঃব্যাংক লেনদেনের ৰেত্রে ওভার নাইট ধার নেয়া অর্থ) সুদের হার কমে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং ও নির্দেশনার কারণেই তারল্যের ৰেত্রে এ স্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে বলেও সংশিস্নষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ থেকে ২৭ মার্চ পর্যনত্ম কলমানির সুদের হার সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ছিল ৬ শতাংশ। যদিও সর্বোচ্চ সুদের হারের স্থর ঠিক থাকলেও কলমানির সর্বনিম্নের সুদের হারে কিছুটা ওঠানামা করেছে। এ ৰেত্রে সর্বনিম্ন ১১ শতাংশ পর্যনত্মও দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু গত ২৮ মার্চ কলমানির সুদের হার সর্বোচ্চ ছিল ১০ এবং নিম্ন ছিল ৫ শতাংশ। তবে গতকাল মঙ্গলবার কলমানির সুদের হার কমে সর্বনিম্ন ৩ শতাংশে পেঁৗছায়। আর সর্বোচ্চ ছিল ৬ শতাংশ। যেটি ১৯০ শতাংশ থেকে কলমানির সুদের হার কমে গতকাল মাত্র ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, বাণিজ্যিক ব্যাংক অব সিলন ৩ শতাংশে ৫ কোটি টাকা ধার করেছে। আর সিটি ব্যাংক এনএ ৩ শতাংশ হার সুদে ৩৮৯ কোটি টাকা ল্যান্ডিং বা ধার দিয়েছে। আর এবি ব্যাংক সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ হার সুদে ১৭৬ কোটি টাকা মানি মার্কেট থেকে ধার করেছে। গতকালের কলমানির সুদের হারের চিত্র গত প্রায় ছ'মাসের মধ্যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এসকেসুর চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে কখনই তেমন তারল্য সঙ্কট ছিল না। যেটি হয়েছিল তা কিছু কিছু ব্যাংকের অব্যবস্থাপনার কারণেই হয়েছে। তবে সেটি কাটিয়ে ওঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পৰ থেকে সামগ্রিকভাবে সহায়তা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং ও সহযোগিতার ফলেই এখন প্রায় সব ব্যাংকেই যথেষ্ট তারল্য রয়েছে। যার কারণেই মঙ্গলবার কলমানির সুদের হার কমে মাত্র ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানেও ব্যাংকগুলোর হাতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার ওপরে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। তবে এসব তারল্য ইসলামী ব্যাংকগুলোর হাতে কিছুটা বেশি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারল্য সঙ্কট যে নেই, তা কলমানির পরিস্থিতি দেখেই স্পষ্ট বোঝা যায়। কারণ ১৫৯ শতাংশ থেকে কমে কলমানির সুদের হার গতকাল পর্যনত্ম সর্বোচ্চ ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। আর সর্বনিম্ন ছিল ৩ শতাংশ। এতে প্রমাণিত হয় ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট কেটে যাচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, বাজারে তারল্য সঙ্কট বেড়ে যাওয়ার কারণে সম্প্রতি ১৯০ শতাংশ পর্যনত্ম কলমানির সুদের হার বেড়ে যায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বীকার করেছে ১৫৯ শতাংশ। এতে মানি মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েক দফায় কলমানির সুদের হার কমিয়ে সর্বশেষ ১২ শতাংশে নামিয়ে আনে। অর্থাৎ কোন ব্যাংক ১২ শতাংশের বেশি কলমানি থেকে অর্থ লেনদেন করতে পারবে না। কিন্তু সম্প্রতি বেসরকারী খাতের তিনটি ব্যাংক এ নির্দেশনা অমান্য করে ১৬ শতাংশ হার সুদে কলমানি থেকে অর্থ ধার করেছে। যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিহ্নিত করে সংশিস্নষ্ট ব্যাংক তিনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের শোকজ করা হয়। পাশাপাশি কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১২ শতাংশের ওপরে কলমানি থেকে অর্থ ধার দেয়া বা গ্রহণ করতে পারবে না এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা অমান্য করে তাহলে সংশিস্নষ্ট ব্যাংকের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় কলমানির সুদের হার কমতে শুরম্ন করছে। সর্বশেষ গতকাল কলমানির সুদের হার কমে সর্বনিম্ন ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে বেসরকারী ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার জনকণ্ঠকে বলেন, বাজারে তারল্য সঙ্কট নেই বললেই চলে। এখন প্রায় সকল ব্যাংকের হাতে কম বেশি তারল্য রয়েছে। তবে মাঝে কোন কোন ব্যাংকের অতিরিক্ত এলসি খোলা বা বড় বড় এলসি খোলার কারণেও হয়ত কিছুটা তারল্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তবে এখন ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং এবং ব্যাংকগুলোর ম্যানেজমেন্টের দৰতার কারণেই এটি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক তাদের প্রয়োজনে ১৩ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ হার সুদে ডিপোজিট সংগ্রহ করছে। এতে বাধ্য হয়ে প্রায় সকল ব্যাংকের ডিপোজিট রেট কিছুটা বাড়ানো হয়। কিন্তু এটি বেশিদিন স্থায়ী থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপোজিট গ্রহণের সুদের হার ১২ শতাংশ। তাই বলে এ ব্যাংক থেকে সকল ডিপোজিট চলে যাবে। সেটি নয়। শুধুমাত্র বেশি সুদের জন্যই গ্রাহকরা ডিপোজিট তুলে নিয়ে অন্য ব্যাংকে যাচ্ছেন না। এখানে ব্যাংকের ব্র্যান্ড, সুনাম এবং ম্যানেজমেন্টের দৰতাসহ একাধিক বিষয় দেখা হচ্ছে।
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=34&dd=2011-03-30&ni=54139
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ থেকে ২৭ মার্চ পর্যনত্ম কলমানির সুদের হার সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ছিল ৬ শতাংশ। যদিও সর্বোচ্চ সুদের হারের স্থর ঠিক থাকলেও কলমানির সর্বনিম্নের সুদের হারে কিছুটা ওঠানামা করেছে। এ ৰেত্রে সর্বনিম্ন ১১ শতাংশ পর্যনত্মও দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু গত ২৮ মার্চ কলমানির সুদের হার সর্বোচ্চ ছিল ১০ এবং নিম্ন ছিল ৫ শতাংশ। তবে গতকাল মঙ্গলবার কলমানির সুদের হার কমে সর্বনিম্ন ৩ শতাংশে পেঁৗছায়। আর সর্বোচ্চ ছিল ৬ শতাংশ। যেটি ১৯০ শতাংশ থেকে কলমানির সুদের হার কমে গতকাল মাত্র ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, বাণিজ্যিক ব্যাংক অব সিলন ৩ শতাংশে ৫ কোটি টাকা ধার করেছে। আর সিটি ব্যাংক এনএ ৩ শতাংশ হার সুদে ৩৮৯ কোটি টাকা ল্যান্ডিং বা ধার দিয়েছে। আর এবি ব্যাংক সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ হার সুদে ১৭৬ কোটি টাকা মানি মার্কেট থেকে ধার করেছে। গতকালের কলমানির সুদের হারের চিত্র গত প্রায় ছ'মাসের মধ্যে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এসকেসুর চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে কখনই তেমন তারল্য সঙ্কট ছিল না। যেটি হয়েছিল তা কিছু কিছু ব্যাংকের অব্যবস্থাপনার কারণেই হয়েছে। তবে সেটি কাটিয়ে ওঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পৰ থেকে সামগ্রিকভাবে সহায়তা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং ও সহযোগিতার ফলেই এখন প্রায় সব ব্যাংকেই যথেষ্ট তারল্য রয়েছে। যার কারণেই মঙ্গলবার কলমানির সুদের হার কমে মাত্র ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানেও ব্যাংকগুলোর হাতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার ওপরে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। তবে এসব তারল্য ইসলামী ব্যাংকগুলোর হাতে কিছুটা বেশি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারল্য সঙ্কট যে নেই, তা কলমানির পরিস্থিতি দেখেই স্পষ্ট বোঝা যায়। কারণ ১৫৯ শতাংশ থেকে কমে কলমানির সুদের হার গতকাল পর্যনত্ম সর্বোচ্চ ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। আর সর্বনিম্ন ছিল ৩ শতাংশ। এতে প্রমাণিত হয় ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট কেটে যাচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, বাজারে তারল্য সঙ্কট বেড়ে যাওয়ার কারণে সম্প্রতি ১৯০ শতাংশ পর্যনত্ম কলমানির সুদের হার বেড়ে যায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বীকার করেছে ১৫৯ শতাংশ। এতে মানি মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েক দফায় কলমানির সুদের হার কমিয়ে সর্বশেষ ১২ শতাংশে নামিয়ে আনে। অর্থাৎ কোন ব্যাংক ১২ শতাংশের বেশি কলমানি থেকে অর্থ লেনদেন করতে পারবে না। কিন্তু সম্প্রতি বেসরকারী খাতের তিনটি ব্যাংক এ নির্দেশনা অমান্য করে ১৬ শতাংশ হার সুদে কলমানি থেকে অর্থ ধার করেছে। যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিহ্নিত করে সংশিস্নষ্ট ব্যাংক তিনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের শোকজ করা হয়। পাশাপাশি কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১২ শতাংশের ওপরে কলমানি থেকে অর্থ ধার দেয়া বা গ্রহণ করতে পারবে না এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা অমান্য করে তাহলে সংশিস্নষ্ট ব্যাংকের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় কলমানির সুদের হার কমতে শুরম্ন করছে। সর্বশেষ গতকাল কলমানির সুদের হার কমে সর্বনিম্ন ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে বেসরকারী ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার জনকণ্ঠকে বলেন, বাজারে তারল্য সঙ্কট নেই বললেই চলে। এখন প্রায় সকল ব্যাংকের হাতে কম বেশি তারল্য রয়েছে। তবে মাঝে কোন কোন ব্যাংকের অতিরিক্ত এলসি খোলা বা বড় বড় এলসি খোলার কারণেও হয়ত কিছুটা তারল্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তবে এখন ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং এবং ব্যাংকগুলোর ম্যানেজমেন্টের দৰতার কারণেই এটি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক তাদের প্রয়োজনে ১৩ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ হার সুদে ডিপোজিট সংগ্রহ করছে। এতে বাধ্য হয়ে প্রায় সকল ব্যাংকের ডিপোজিট রেট কিছুটা বাড়ানো হয়। কিন্তু এটি বেশিদিন স্থায়ী থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপোজিট গ্রহণের সুদের হার ১২ শতাংশ। তাই বলে এ ব্যাংক থেকে সকল ডিপোজিট চলে যাবে। সেটি নয়। শুধুমাত্র বেশি সুদের জন্যই গ্রাহকরা ডিপোজিট তুলে নিয়ে অন্য ব্যাংকে যাচ্ছেন না। এখানে ব্যাংকের ব্র্যান্ড, সুনাম এবং ম্যানেজমেন্টের দৰতাসহ একাধিক বিষয় দেখা হচ্ছে।
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=34&dd=2011-03-30&ni=54139
Comments
Post a Comment