আটকে আছে ১৪ বীমা কম্পানির আইপিও ছাড়ার প্রক্রিয়া

পুঁজিবাজারে যেতে হলে বীমা কম্পানির ৩০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে। কিন্তু আগ্রহী কম্পানিগুলোর বেশির ভাগেরই মূলধন তিন কোটি টাকার ঘরে

মূলধন বাড়ানোর আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে ১৪টি বীমা কম্পানির আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) ছাড়ার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন বীমা আইন অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে যেতে হলে বীমা কম্পানির ৩০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে। কিন্তু আগ্রহী কম্পানিগুলোর বেশির ভাগেরই মূলধন তিন কোটি টাকার ঘরে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি) অবশ্য ইতিবাচক মতামত দিয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বলেছে, তাদেরও আপত্তি নেই, তবে আইন অনুযায়ী কম্পানিগুলোর মূলধন ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসে শিগগিরই বীমা কম্পানিগুলোর আইপিও ছাড়ার বিষয়টি ফয়সালা করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সরকারি কম্পানিগুলোর শেয়ারও শিগগিরই আসতে শুরু করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ছয়টি জীবন বীমা কম্পানি ও আটটি সাধারণ বীমা কম্পানি আইপিও ছাড়ার জন্য এসইসির কাছে আবেদন করেছে। জীবন বীমা কম্পানিগুলো হলো_হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি, সান ফ্লাওয়ার লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি, সান লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি, বায়রা লাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি ও গোল্ডেন লাইফ ইনসুরেন্স কম্পানি। আর আইপিও ছাড়তে আগ্রহী সাধারণ বীমা কম্পানিগুলো হলো_মেঘনা ইনস্যুরেন্স কম্পানি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স কম্পানি, সাউথ এশিয়া ইনস্যুরেন্স কম্পানি, ইসলামী কমার্শিয়াল ইনস্যুরেন্স কম্পানি, এঙ্প্রেস ইনস্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইনস্যুরেন্স কম্পানি, ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্স কম্পানি ও দেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কম্পানি। এই ১৪টি বীমা কম্পানির বাইরে বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইনস্যুরেন্সও শেয়ারবাজারে আইপিও ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, '১৪ বীমা কম্পানির আইপিও ছাড়ার বিষয়ে এসইসি সম্মতি দিয়েছিল। এখন বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ পরিশোধিত মূলধনের আকার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।' তিনি বলেন, 'এখন অর্থ মন্ত্রণালয় সবার সঙ্গে বসে বিষয়টি চূড়ান্ত করবে। তবে আমি আশা করি, এটি হয়ে যাবে।'
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বীমা কম্পানিগুলো আইপিও ছাড়ার অনুমোদন চেয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে এসইসি ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসইসি কম্পানিগুলোর আইপিও ছাড়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষও একই ধরনের মতামত দিয়েছে। তবে বীমা কর্তৃপক্ষ তাদের মতামতে বলেছে, আইপিও ছাড়ার আগে বীমা আইন, ২০১০ অনুযায়ী কম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে।
বীমা আইন, ২০১০-এ বলা হয়েছে, বীমা কম্পানির পরিশোধিত মূলধন হবে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা। তবে এ আইন প্রণয়নের আগে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া বীমা কম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবু বীমা কর্তৃপক্ষ পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর শর্ত দেওয়ায় আগ্রহী কম্পানিগুলোর আইপিও ছাড়া নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পরই এসইসি, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃর্পক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে কম্পানিগুলোর আইপিও ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইপিও ছাড়তে আগ্রহী বীমা কম্পানিগুলোর জন্ম ২০১০ সালে বীমা আইন প্রণয়নের আগেই। ফলে এসব কম্পানির কোনো কোনোটির পরিশোধিত মূলধন তিন কোটি টাকা। আগ্রহী বীমা কম্পানিগুলোর ওয়েবসাইটে বিদ্যমান তথ্যানুযায়ী, হোমল্যান্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন তিন কোটি টাকা, সান ফ্লাওয়ার লাইফ ইনস্যুরেন্সের তিন কোটি ও পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধনও তিন কোটি টাকা। আর সাধারণ বীমা কম্পানিগুলোর মধ্যে মেঘনা ইনস্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ৯ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সের ছয় কোটি টাকা, ক্রিস্টাল ইনস্যুরেন্সের ছয় কোটি টাকা ও ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্স কম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি টাকা। বাকি বীমা কম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধনের আকার জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সরকারি কম্পানিগুলোর শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে গত ১০ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে আন্তমন্ত্রণালয়ের সভা হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্রুত শেয়ার ছাড়ার তাগিদ দিয়ে সরকারি ২৩টি কম্পানির নিয়ন্ত্রক মন্ত্রণালয়গুলোয় গত ১৩ জুলাই চিঠি পাঠিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সরকারি ২৭টি কম্পানির মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান এখন শেয়ারবাজারে রয়েছে। আর লোকসানি থাকায় চট্টগ্রাম ড্রাইডককে এই মুহূর্তে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
সরকারি কম্পানির শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে গত বুধবার অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'সরকারি শেয়ার আমরা বাজারে আনছি। এর মধ্যে কিছু আসবে। কয়েকটা আসতে একটু দেরি হবে।'


http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=College&pub_no=591&cat_id=1&menu_id=24&news_type_id=1&index=0

Comments